ঢাকা | মঙ্গলবার | ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে এলআর গ্লোবালকে ছয় মিউচুয়াল ফান্ডের দায়িত্ব থেকে অপসারণ

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুঁজি পরিচালনা প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের অ্যাসেট ম্যানেজারের পদ থেকে অপসারণ করেছে। কমিশনের ৯৯৭তম সভায় ৩ ফেব্রুয়ারি নেয়া এই সিদ্ধান্তটি সরকারি ভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে সোমবার ২ মার্চ প্রকাশ করা হয়।

এলআর গ্লোবাল আরবত থেকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হারানো ফান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে — গ্রীন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান এবং ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি)-কে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এ অপসারণের বিষয়ে চিঠি দিয়ে জানানো হয়। কমিশন বলছে, কোম্পানিটি সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে অত্যন্ত দুর্বল আর্থিক অবস্থার কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে, যার ফলে ফান্ডের নেট অ্যাসেটে ভ্যালু (এনএভি) ও পুঞ্জীভূত লোকসানে প্রভাব পড়েছে — এ কারণেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এলআর গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকে পুঁজিবাজারে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত জরিমানা হিসেবে সংশ্লিষ্ট ছয় ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

জরিমানাপ্রাপ্তদের তালিকায় রিয়াজ ইসলাম ছাড়াও রয়েছেন রেজাউর রহমান সোহাগ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শরীফ আহসান, মদিনা আলী, সৈয়দ কামরুল হুদা ও ওমর শোয়েব চৌধুরী। প্রত্যেককে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জরিমানাও আরোপিত হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন ব্যর্থ হওয়ায় বিজিআইসি-কে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে।

বিএসইসির সিদ্ধান্ত জনসম্মুখে আনতে মোটামুটি এক মাস সময় নেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনা-অপশুন্য তৈরি হয়েছিল, কারণ সাধারণত কমিশন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা প্রকাশ্যে আনে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, কৌশলগত কারণে সিদ্ধান্ত প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে; বর্তমানে ডিএসইর মাধ্যমে তথ্য সার্বজনীনভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কমিশনের এই দৃঢ় পদক্ষেপ পুঁজিবাজারে শাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। তবে তারা নিউনতম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা ও তদারকির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা না সৃষ্টি হয়।