ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সিরিয়ার ভয়াবহ দাবানলের কারণে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর

সিরিয়ার উপকূলীয় লাতাকিয়া প্রদেশে ব্যাপক দাবানলের ফলে স্থানীয় আবাসিক এলাকাগুলো থেকে মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছেন, চলমান এই দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিভিন্ন এলাকার বিশেষ করে উপকূলীয় অংশে কয়েক দিন ধরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে। দমকল বাহিনী প্রবল বাতাস ও তীব্র খরার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে কঠিন পরিশ্রম করছে।

আব্দুল কাফি কায়্যাল, লাতাকিয়ার দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক, রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানাকে জানান, কাস্তাল মা’আফ এলাকায় ছড়িয়ে পড়া দাবানল আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে পৌঁছে গেছে। এই কারণে ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স বা হোয়াইট হেলমেটস জানিয়েছে, উদয়মান ধোঁয়া উপকূলীয় পর্বতমালা থেকে হামা ও দক্ষিণ ইদলিব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে লাতাকিয়ার গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন বাগানের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কাশফিক আগুন লাগানোর কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্য যাতে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়, সেই আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খরা ও দাবানলের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে এবং সিরিয়া এ থেকে বাদ নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি তীব্র তাপপ্রবাহ, কম বৃষ্টিপাত এবং ব্যাপক দাবানলের মুখোমুখি হচ্ছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) গত জুনে জানিয়েছে, গত ৬০ বছরে সিরিয়ার জলবায়ু পরিস্থিতি এতো খারাপ ছিল না। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই তীব্র খরার কারণে প্রায় এক কোটি ষাট লাখ মানুষ খাদ্য সংকটের মধ্যে পড়তে পারেন।

এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের প্রভাবেও দেশটি নানা সংকটে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনের পরবর্তী রাজনৈতিক রূপান্তরও এখনও চলমান।

কায়্যাল আরও জানান, আগের যুদ্ধে রেখে যাওয়া মাইন ও অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক পদার্থ উদ্ধার কাজ বাধাগ্রস্ত করছে এবং প্রবল বাতাস আগুন দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করছে।

এই ভয়াবহ দাবানলের কারণে স্থানীয় জনসাধারণের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে কাজ চালাচ্ছে।