ঢাকা | শনিবার | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সেন্ট মার্টিনে রাত্রির পর্যটন আবার শুরু: কঠোর নির্দেশনা ও প্রস্তুতি

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় নয় কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এই মনোমুগ্ধকর দ্বীপের স্বচ্ছ নীল জল, জীবন্ত প্রবাল প্রাচীর, নারকেল গাছের সারি এবং সমুদ্রজীবনের বৈচিত্র্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে থাকে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই দ্বীপে রাত্রিযাপন বন্ধ ছিল। অবশেষে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর, ১ ডিসেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা পুনরায় চালু হচ্ছে। দ্বীপটি স্থানীয়ভাবে ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ নামেও পরিচিত, যেখানে শান্ত সুন্দর সৈকত এবং ডুবো জীববৈচিত্র্যের সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এই অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবারই অনেক পর্যটক আসেন, আর এবার সেই আগ্রহ ফিরে এসেছে।

অতীতের অপেক্ষার পর, কক্সবাজার থেকে সেন্ট মartenটিনের জন্য পর্যটকদের বহনকারী জাহাজ চলাচল আবার শুরু হচ্ছে। ১ ডিসেম্বর কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে সকালের সাতটায় জাহাজ ছেড়ে যাবে, এবং ফেরত যাবে পরের দিন বিকাল তিনটায়। এই রুটে মোট চারটি জাহাজ চলবে, যার মধ্যে রয়েছে এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন। পর্যটকদের জন্য এই যাত্রার জন্য রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকলেও, তাদের অবশ্যই ১২ টি কঠোর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সীমিত সংখ্যক পর্যটক যাতে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পায়, তার জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের মাইন্ডে রাখা হয়েছে।

পেশাদার প্রস্তুতি হিসেবে জেলা প্রশাসন সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সুরক্ষা ব্যবস্থা ও কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম বলেছেন, এই সুযোগ নিতে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, এখন থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া থেকে সেন্টমার্টিনের জন্য জাহাজ চলাচল করবে, কারণ আগে ছিল টেকনাফ থেকে চালু, যা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে পরিবর্তিত হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও সচেতন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে জাহাজ চলাচল কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। দু’টি জেটিতে পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই নিয়মাবলী নিশ্চিত করতে নৌযানগণকে নজরদারিতে রাখা হবে এবং প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে পারবে না।

প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২২ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে যেখানে সেন্ট মার্টিনের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য ১২টি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, অনুমতি ব্যতীত অন্য কোনো নৌযান দ্বীপে চলাচল করবে না, সরকারি অনুমোদন ছাড়া টিকেট বিক্রি বা ট্যুর অপারেটররা সরাসরি চেকিং ও ট্রাভেল পাসের জন্য ডিজিটাল কিউআর কোড ব্যবহার করতে বাধ্য।

নভেম্বর মাসে পর্যটকদের জন্য দিনে ভ্রমণের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, আর রাতের যাত্রা ও বাসস্থান আপাতত বন্ধ। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হলেও, ফেব্রুয়ারিতে দ্বীপে ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। এরই মধ্যে, দীর্ঘ আড়াই মাসের জন্য পর্যটকদের নিরাপদ ও সংরক্ষিত ভ্রমণের পরিকল্পনা অঙ্গীকার করছে প্রশাসন।