ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রাজা নকভির সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্ববহ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

বৈঠকে মাদক ও সন্ত্রাস দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধাসহ ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়গুলি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা, সাইবার অপরাধ মোকাবেলা এবং অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়েও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করা হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উপস্থাপন করেন যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন যাবত অভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশীদার এবং উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দিন দিন আরও দৃঢ় হচ্ছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এ কথা স্বীকার করে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ দমনসহ সকল ক্ষেত্রে দুই দেশের সর্বাত্মক সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা।

অন্যদিকে, অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধার জন্য দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাকিস্তানে বর্তমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের নতুন ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে বর্তমানে এমআরপি পাসপোর্ট প্রদান চলছে; ভবিষ্যতে ই-পাসপোর্ট প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমন তাদের দেশের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, কারণ এ বিষয়ে ব্যর্থতা সারাবিশ্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। তিনি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমন কার্যক্রম থেকে শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

মাদক সমস্যা মোকাবেলায়ও দুই দেশ অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে কার্যকর সহযোগিতা করতে পারে, যা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও সমর্থন করেন। পুলিশের প্রশিক্ষণ উন্নয়নে দুই দেশের পুলিশ একাডেমির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সম্ভব এবং এ বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয় না, তবে পাসপোর্ট দেয় বিশেষ কোডসহ যা তাদের শনাক্ত করতে সাহায্য করে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও বলেন যে, মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় দিয়েছে যা একটি বড় দায়িত্ব। তিনি পাকিস্তানের কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকের শেষে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পাকিস্তান সফরে আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া, তিনি ঢাকা উত্তরায় একটি বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের জন্য পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনাও জানান।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং পাকিস্তান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মুহাম্মদ ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।