ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

স্বৈরাচার যেন আর মাথাচাড়া দিতে না পারে: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পুনরুত্থান কর্মসূচির উদ্বোধন করে বলেছেন, যে লক্ষ্য নিয়ে তরুণ ছাত্র-ছাত্রী, সাধারণ জনতা, রিকশাচালক ও শ্রমিকরা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে আমরা গত বছরের প্রতিটি দিনকে আবারও জীবন্ত করে তুলব। এই অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনের শপথ নবায়ন করব এবং প্রতি বছর এমন কর্মসূচি চালিয়ে যাব যাতে স্বৈরাচার আবার মাথাচাড়া দানে না পারে।

আজ মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজন করা এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘‘আজ ইতিহাসের এক গৌরবময় মুহূর্ত। এক বছর আগে এই জুলাই মাসে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন শুরু করেছিল, তা একটি অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের মুক্তির স্বাদ এনে দিয়েছিল। জুলাই ছিল দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ের এক অমোঘ ডাক, জনমানুষের এক মহান জাগরণ। সেই আন্দোলনের মূল বার্তা ছিল—‘ফ্যাসিবাদ নির্মূল করে নতুন বাংলাদেশ গঠন, রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে আনা।’’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন ছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার। আমাদের স্মরণ অনুষ্ঠান শুধুমাত্র আবেগের প্রকাশ নয়, এটি ক্ষোভ প্রদর্শনের ব্যাপারও নয়। ১৬ বছর পর আমরা একটি বড় বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলাম, আর অভ্যুত্থানের মূল কারণ সেই লক্ষ্যের বাস্তবায়ন। যদিও সেই লক্ষ্য কিছুটা পূরণ হয়েছে, তবু আমাদের সামনে রয়েছে আরও বড় স্বপ্ন—নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নতুন বাংলাদেশ গঠন।’’

প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, ‘‘স্বৈরাচার যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সেজন্য সবাইকে দৃঢ়ভাবে সচেতন থাকতে হবে। প্রতি বছর আমরা এই সময় স্মরণীয় কর্মসূচি করব যাতে পরবর্তীতে আবার এই ধরনের অভ্যুত্থানের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হয়। স্বৈরাচারের কোনো রূপ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক তা বন্ধ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পুনরুত্থান কর্মসূচি পালন অত্যন্ত জরুরি, যাতে স্বৈরাচারের শুরুর আগে আমরা তাকে ধরতে পারি এবং পুনরায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা না করতে হয়।’’

প্রধান উপদেষ্টা বিশেষভাবে ওই সকল তরুণ-তরুণী, নারীদের, শিশু-বৃদ্ধ, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক ও রিকশাচালকদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন, যারা রাস্তায় নেমে গণতন্ত্রের পতাকা উঁচু করেছিলেন এবং সাহস, ত্যাগ ও দৃঢ়তার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান, ‘‘জুলাই মাসকে ঐক্যের মাসে পরিণত করুন। আমাদের এই মাসব্যাপী কর্মসূচি শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং নতুন শপথের প্রতীক। গত বছরের জুলাইয়ে দেশের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা ঐক্যকে এই জুলাই আবার সুসংহত করতে হবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা দাবি করা এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সংস্কারের সুযোগকে হারিয়ে না ফেলা। সামনে আমাদের পথ কঠিন হলেও সম্ভাবনাও অপরিসীম। ইতিহাস বলছে, জনগণ যখন জেগে ওঠে, কোনো শক্তিই তাদের থামাতে পারে না। সেই বিশ্বাস ও আশায় আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি— আসুন, জুলাই মাসকে গণজাগরণের ও ঐক্যের মাসে রূপান্তর করি।’’

কর্মসূচির সফলতা কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা বললেন, ‘‘এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের স্বপ্ন পুনর্জীবিত হোক। আমাদের ঐক্য শক্তিশালী ও অটুট হোক— এই আমাদের মূল লক্ষ্য।’’

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী এবং শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার সহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।