ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

হরমুজে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন হামলার অভিযোগ, নিহত ৫

ইরানের দাবি: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানে পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তেহরান অভিযোগ করেছে যে, ওয়াশিংটন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এর নৌযান লক্ষ্য করে হামলার কথা বললেও πραγμαতে তারা সাধারণ যাত্রীবাহী ছোট নৌকাকে আঘাত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি সোমবার এক সামরিক কমান্ডারের বরাতে জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে ইরানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে দুটি ছোট নৌকায় হামলা চালানো হয়। সূত্রটি বলেছে ওই দুই নৌকাই পুরোপুরি ধ্বংস হয় এবং তাতে থাকা পাঁচ আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। তেহরান এই ঘটনার তদন্তের বরাতে এটিকে ‘‘অপরাধ’’ বলে অভিহিত করে বলেছে, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহিতার মুখে আনা হবে।

মার্কিন পক্ষের বিবরণ এই দাবি থেকে আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানের সময় আইআরজিসির ছয়টি নৌযান বাধা সৃষ্টি করছিল। তাঁর ভাষ্য, ওই নৌযানগুলোকে মার্কিন বাহিনী ধ্বংস করেছে। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধ্বংস হওয়া নৌযানের সংখ্যা সাতটি বলেও মন্তব্য করেছেন। এই পারস্পরিক দাবি–প্রতিদাবিতায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়েছে।

ইরানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন দাবির পর তারা ঘনিষ্ঠভাবে একটি তদন্ত করেছে এবং সেই তদন্তে দেখা গেছে আইআরজিসির কোনো নৌযান এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়নি। বরং আহত বা নিহতরা সাধারণ যাত্রীবাহী নৌকার আরোহী ছিলেন, বলে তাদের তত্ত্ব। তেহরান ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিকভাবে দায়ী করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন মার্কিন নৌবাহিনী ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নামে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পারাপারে সহায়তা করছে। এ অভিযানের ফলে ইতোমধ্যে সবচেয়ে নাজুকা বৈরিতার সূচনাও দেখা দিয়েছে—গেল ৮ এপ্রিল ঢাকা যেভাবে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টিকে আছে, তা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বেসামরিক নাগরিকদের নিহত হওয়ার দাবিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত ও পক্ষগুলোর বক্তব্য মিলছে না—তারফলেই পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।