প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ভারতের পালিয়ে থাকা অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের ফেরত আনতে কিছু সময় লাগবে, কিন্তু অবশেষে তারা দেশেই ফিরবে এবং তাদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালও অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, একদিন না একদিন, ওই সব নেতাদের দেশে ফিরে আসতে হবে এবং তাদের বিচার হোক। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় নিতাই গৌর সেবাশ্রমে অধ্যক্ষ বাবাজী মহারাজ চিন্ময় আনন্দ দাস (চঞ্চল গোসাই) এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, পুরো বাংলাদেশে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘরে বাইরে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি উত্তর দেন, আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা বিরোধীদের সম্পৃক্ততা দেখে জনগণের অধিকার হরণ করেছে। তারা নিজেও নিজেদের ডিসকোয়ালিফাইড করেছে। যখন কোনো রাজনৈতিক দল অস্ত্র হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়, তখন জনগণ সেই দলের রাজনীতি করতে দেয় না।
তিনি আরো বলেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল। স্বাধীনতার চেতনা দিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যেমন পুলিশ ও এনএসআই কর্তৃপক্ষের মধ্যে।
শফিকুল আলম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক অত্যাচার ও জুলুম চালানো হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেই সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ সব সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি আনা হবে। এজন্য তাদের অবশ্যই দেশে ফিরে আসতে হবে এবং বিচারকে স্বীকার করতে হবে।
এছাড়াও, বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশে আসেন। শ্রদ্ধা জানিয়ে যাওয়ার পরে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এরপর দেশ ত্যাগ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার আমিনুল ইসলাম, মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান, নিতাই গৌর সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভৌমিকসহ অন্যান্যরা।





