যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই বলছে, ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের কাঁচা মাঠে অনুষ্ঠিত এক ইউএফসি ইভেন্টে বন্দুকধারী ও ড্রোন ব্যবহার করে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ফাঁস করে তারা। ওই ঘটনায় পরবর্তী সময়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এফবিআই আদালতের নথির উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হামলাকারীরা ব্যাপকভাবে সুসংগঠিত পরিকল্পনা করেছিল। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিস্ফোরক বোঝাই কয়েকটি ড্রোন হোয়াইট হাউসের উত্তর দিক থেকে ছুড়ে হামলা চালাবে। সহচররা ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে অতিথিদের একটি নির্দিষ্ট রুটে নামিয়ে আনবে, সেখানে ওত পেতে থাকা স্নাইপাররা লক্ষ্যভিত্তিক গুলি চালাবে—বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যা করা ছিল মূল লক্ষ্য।
ঘটনার সময় বাড়তি সতর্কতায় সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউএফসি মিশ্র মার্শাল আর্ট ইভেন্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠান ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের লনে আয়োজন করা হয়েছিল। অবশ্য শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠান শেষ হয়। অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পাশাপাশি বহু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (টুইটারের বদলে ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম) জানিয়েছেন, তাদের কাছে সম্ভাব্য হামলার একটি আগাম তথ্য ১০ জুন পৌঁছায়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওয়াশিংটনের বাইরের একটি সংগঠিত চক্র এই পরিকল্পনায় জড়িত ছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, হত্যার পরিকল্পনা এবং অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে একনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, হামলার তথ্যের বড় অংশই এসেছে ওহাইওর বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী সন্দেহভাজন টাইসেন প্রপারকে (Tyssen Proper) নিয়ে করা একটি স্থানীয় ফোন কল থেকে। প্রপারের মা স্থানীয় পুলিশের কাছে জানিয়েছিল, তার ছেলে সম্প্রতি প্রচুর অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং অনলাইনে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এ তথ্য নজরে রেখে এফবিআই প্রপারকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অনেক কিছু স্বীকার করে বলে নথিতে বলা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালের বরাতে জানা গেছে, এই চক্রে সম্ভবত প্রায় ২৩ জন জড়িত থাকতে পারে। জড়িতদের অর্থায়ন ও বাইরে থেকে সমন্বয় থাকায় সামনের সারিতে থাকা কর্মকর্তারা একটি বড় পরিকল্পনা হিসেবে এটিকে দেখছেন।
ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে থাকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনার বিষয়ে জানান, তিনি আগেই এই হামলার পরিকল্পনার কথা জানতেন না। ভিস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ঘটনার গুরুতরতা নিয়ে সতর্ক পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করেছেন। তিনি করেছেন মন্তব্য, একটি ছোট গ্রুপ বা একক ব্যক্তির কাজের চেয়ে বেশি সমন্বয় ও অর্থায়নের ছাড়া ২৩ জনের মতো দল এমন একটি বড় হামলা চালাতে পারত না—এমনটি একটি সংগঠিত পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের কোনও সংগঠন জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এফবিআই এই ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং তদন্তকারীরা অন্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টায় রয়েছেন। হোয়াইট হাউস ও স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিরাপত্তা বাড়িয়েছে এবং আগামীদিনে ব্যস্ত জনসমাগমে সতর্কতা জারি রেখেছে। তদন্ত সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এগোচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানান।








