ঢাকা | শনিবার | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এনইআইআর বাস্তবায়নের দাবি মোবাইল শিল্পের

মোবাইল ফোন শিল্পের অগ্রগতির স্বার্থে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেণ্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) কার্যকরভাবে চালু করা উচিত। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা, বৈধতা এবং সঠিক রেকর্ড নিশ্চিত হবে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মোবাইল শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে।

সংগঠনটির মতে, এনইআইআর বাস্তবায়নে সরকারের রাজস্বের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সৃষ্টি হবে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সাংগঠনিক নেতারা দেশের মোবাইল শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন।

এমআইওবির সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, বর্তমানে দেশে ১৮টি মোবাইল সংযোজন ও উৎপাদনকারী কারখানা রয়েছে, যেখানে দেশি ও বিদেশি সংস্থাগুলির বিনিয়োগ প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার বেশি। এই খাতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ মানুষ কর্মরত আছেন, যার মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী শ্রমিক। কারখানাগুলো মাসে প্রায় ১৫ লাখ স্মার্টফোন এবং ২৫ লাখ ফিচার ফোন উৎপাদন করতে সক্ষম।

অবৈধ বা গ্রে মার্কেটের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে, যেখানে গ্রে মার্কেটের আকার প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা। এনইআইআর কার্যকর হলে এসব অবৈধ বাজারের দমন সম্ভব হবে এবং সরকারের আয় দ্বিগুণ হবে।

এমআইওবির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, এনইআইআর চালু হলে ফোনের দাম বাড়ার কথাটি শোনা যায়, যা কিছু মহলের স্বার্থরক্ষা জন্য ছড়ানো হচ্ছে। আসলে, এই ব্যবস্থা আনা হলে হাই-অ্যান্ড ফোনের উৎপাদন বাড়বে এবং গ্রাহকরা কম দামে মানসম্পন্ন ফোন পাবে।

সংগঠনটি মোবাইল শিল্পে সিন্ডিকেট বা নতুন কর আরোপের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করে, কারণ বর্তমান বাজারে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা রয়েছে। তারা আরও জানায়, ২০১৯ সাল থেকে মোবাইল আমদানিতে ৫৭ শতাংশ শুল্ক চালু রয়েছে, নতুন কর আরোপের কোন উদ্যোগ সরকার নেয়নি।

সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, এনইআইআর চালু হলে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বৃদ্ধি পাবে, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার হবে, এবং পুরোনো বা রিফারবিশ মোবাইল বিক্রয় ও বিক্রয়-বিরতিতে কোনো বাধা থাকবে না। ফলে, এই প্রকল্পটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।