ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

২০২৪ সালে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১৩ শতাংশ

২০২৪ সালে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) গত বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ কমেছে। গত বছর এফডিআই পরিমাণ ছিল ১২৭ কোটি ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে নিট এফডিআই ছিল ১৪৬.৪০ কোটি ডলার।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাড গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে এই তথ্য দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগের স্থিতি ২০২৪ সালের শেষে ১,৮২৯ কোটি ডলার, যা দেশের জিডিপির মাত্র ৪ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার গড় হার ১৩ শতাংশ, ভারতের হার ১৪ শতাংশ এবং ভুটানে ১৭ শতাংশ।

এ বছর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য ঘোষিত অর্থের পরিমাণও কমে ১৭৫ কোটি ডলারে নেমেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা মাত্র ৭০ লাখ ডলার বৈধভাবে বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, গত পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ২০২১ সালে দেশের বাইরে ৮ কোটি ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ব যখন আরও গভীর সহযোগিতা এবং বিস্তৃত সুযোগ সৃষ্টি করার পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে, তখন ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ১১ শতাংশ কমে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই ফেরা বিশ্ব অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের মন্দা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি কম মনোযোগ বাড়িয়ে তুলেছে উদ্বেগ। বাণিজ্য উত্তেজনা, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক বিভাজন বৈশ্বিক বিনিয়োগের পরিবেশকে কোটি জটিল করে তুলেছে।

তবে ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে কিছু আশার আলো দেখা যাচ্ছে। যদিও ডিজিটাল খাতের প্রবৃদ্ধি এখনও অসম, ডিজিটাল পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি যাতে ডিজিটাল সংযুক্তি সবার কাছে পৌঁছে অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির একটি শক্তিশালী চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রতিবেদনটি সরকারগুলোকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্ট এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজিএস) অর্জনে সহায়তা করার বাস্তবিক নির্দেশনা দিয়েছে। এই সময় একসঙ্গে কাজ করে আরও সহনশীল ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং জ্বালানি সংকটের কারণে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যায়। যদিও কিছুটা সহনীয়তা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা হয়েছে, তবুও তা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে যথেষ্ট নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৪ অনুযায়ী, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে এফডিআই প্রবাহ ১২.৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ২০২২ সালে বেড়ে ২০.১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মধ্যে প্রবাহ দাঁড়িয়েছিল ৩৪৮ কোটি ডলারে, কিন্তু ২০২৩ সালে তা আবার ১৩.৬৭ শতাংশ কমে ৩০০.৪০ কোটি ডলারে গিয়েছিল। একই সময়ে ভিয়েতনামে এফডিআই বেড়েছে ৩.৩৫ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় ১০.৬১ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ২৪.৩৫ শতাংশ।

২০২৩ সালে ৪৫টি স্বল্পোন্নত দেশ এফডিআই প্রবাহে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার প্রায় অর্ধেক প্রবাহ কম্বোডিয়া, ইথিওপিয়া, বাংলাদেশ, উগান্ডা এবং সেনেগাল এই পাঁচ দেশে কেন্দ্রীভূত ছিল। গত এক দশকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বহিঃখাতগুলোতে অন্যান্য অর্থায়নের উৎসের তুলনায় এফডিআই প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম। সামগ্রিকভাবে উন্নয়ন সহায়তা এবং রেমিটেন্স হার উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর থেকে বেশি। তবে ২০২৩ সালে বৈশ্বিকভাবে এফডিআই প্রবাহ ১০ শতাংশেরও বেশি কমে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ।