ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

৬ জুলাই: দেশ জুড়ে উত্তাল বিক্ষোভ, ঘোষণা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি

২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা বিরোধী আন্দোলন তীব্র আকার নেয়। ৬ জুলাই, রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবরোধ তুলে নেওয়ার পূর্বে আন্দোলনকারীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে একটি বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যার লক্ষ্য ছিল সারা দেশে ব্যাপক অবরোধ চলানো। একই দিনে দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই ছাত্ররা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়।

৬ জুলাই আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় এক ঘণ্টার মতো অবরোধ করে রাখেন এবং বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এই দিন পর্যন্ত আন্দোলনের মূল কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল। তবে কোটা বিষয়ে হাইকোর্টের দীর্ঘসূত্রতা এবং ছাত্রদের দাবিকে অবজ্ঞায় ফেলার কারণে আন্দোলন আরও তীব্র আকার নেয়। পাশাপাশি শাহবাগ অবরোধ চলাকালে গাড়িগুলো পাশ কাটিয়ে গেলে আন্দোলনের প্রভাব প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায় না, যা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আন্দোলনকারীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জানান, ‘‘আগামীকাল বিকেল তিনটা থেকে শুরু হবে ‘বাংলা ব্লকেড’। শুধু শাহবাগ মোড় নয়, ঢাকা শহরের সায়েন্সল্যাব, চানখাঁরপুল, নীলক্ষেত, মতিঝিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন। ঢাকার বাইরে জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও মহাসড়ক অবরোধ হবে। সরকার মনে করছে আমরা কয়েকদিন অবরোধ করে ক্লান্ত হয়ে ছাড়ব, কিন্তু সেটা আমরা কখনই হতে দেব না। প্রয়োজনে আমরা হরতালেও যাব।’’

এদিন রাতের দিকে কার্জন হলের হোয়াইট হাউসের সিঁড়িতে আন্দোলনকারীরা বৈঠক করে ‘বাংলা ব্লকেড’ নাম এবং কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব বণ্টন করে। ঢাকা ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত-সায়েন্সল্যাবে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জিরো পয়েন্টে, আর বোরহানুদ্দীন কলেজের শিক্ষার্থীরা চানখাঁরপুলে অবরোধ পালন করবেন।

৬ জুলাই বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে বিক্ষোভে পরিণত হয়। একই দিন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও চাকরি প্রত্যাশীরা বিভিন্ন জেলায় সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন।

তবে আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফকে অব্যাহতির ঘোষণা দেয়া হয়। এই দিন তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দীর্ঘসময় অবরোধ করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উপেক্ষা করে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও বিভিন্ন সময় ও স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করে তাদের দাবির পক্ষে কঠোর অবস্থান নেয়। বৃষ্টির মধ্যে ও কঠোর পরিবেশেও তারা অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার সংকল্প ব্যক্ত করে।

এই কঠোর আন্দোলন পুরো দেশে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে এবং শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে তাদের দাবির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের পথে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে।