ঢাকা | মঙ্গলবার | ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

৯ জুলাই সারাদেশে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই মঙ্গলবার সারাদেশে ব্যাপক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস-বর্জন ও ‘গণসংযোগ’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

এই কর্মসূচি শেষে বিকেল সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি জানান, আগামী ১০ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচির আওতায় সড়কপথ ও রেলপথ অবরোধ থাকবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির স্থান হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ এলাকা। সকাল ১০টায় তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে জমায়েত হয়ে শাহবাগ মোড়ে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করবেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার এবিষয়ে কোনো আশ্বাস না দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে এই আন্দোলনে নেমেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোটা বাতিল চান না আন্দোলনকারীরা, বরং অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য ৫ থেকে ১০ শতাংশ কোটা রেখে বাকি সংস্কারের দাবি করছেন।

২০১৮ সালে সরকারের জারি করা কোটা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ৭ জুলাই থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়ক-রেলপথ অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন হয়। তবে ৯ জুলাই মঙ্গলবার তারা ‘বাংলা ব্লকেড’ স্থগিত রেখে ‘গণসংযোগ’ চালায় এবং সমন্বয় করেন দেশের নানা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনলাইনে।

এদিন হাইকোর্টের কোটা পুনর্বহাল রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ঢাবির দুই শিক্ষার্থী, তবে ছাত্রদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই আবেদনকারীরা নয়।

অন্যদিকে, কোটা আন্দোলন নিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এই ইস্যুতে সরকারের সিদ্ধান্ত নেই, সবকিছু এখন সর্বোচ্চ আদালতের হাতে। রাজপথে আন্দোলন করে সমাধান হবে না। একই দিনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের নেতাকর্মীদের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

৯ জুলাই বেলা দুপুরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল থেকে গণসংযোগ এবং দুপুরে পাঁচটি ছাত্রী আবাসিক হলে কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ঢাকার বাইরে রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও হবিগঞ্জেও শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেন।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন আরো জোরালো হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছে, যা সরকারের প্রতি তাদের মর্মস্থল স্পর্শ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।