বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খান বর্তমানে পঁইষট্টি বছর বয়সে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু তার স্পষ্ট ও আভিজাত্যपूर्ण লুক দেখে বয়সের ছাপ কোনওভাবেই বোঝা যায় না। সম্প্রতি এতটাই পরিবর্তন এসেছে তার শারীরিক গঠনে যে, অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে—জিম বা কঠোর শরীরচর্চার প্রয়োজন কি আর নেই? তবে স্তাইলিস্ট এবং ভক্তরা জানাচ্ছেন যে, এই অসম্ভব রকমের রূপান্তর সম্ভব হয়েছে মূলত তার নিরামিষ ও স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাসের জন্য। জিম বা ওজন কমানোর জন্য শরীরচর্চা ছাড়াই সুপ্রতিষ্ঠিত এই তারকার নতুন রূপের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের কাছে এটি অবাক করার মতই বিষয়, কারণ আমিরের এই পরিবর্তনের পেছনে লুকায়িত রয়েছে একটি বিশেষ খাদ্যচর্চা পদ্ধতি।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানা গেছে, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির খান নিজেই সেই রহস্য উন্মোচন করেছেন। তিনি বলছেন, তার এই শারীরিক রূপান্তরে দায়ী মূলত একটি ‘অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি’ বা প্রদাহবিরোধী ডায়েট। মজার বিষয় হলো, ওজন কমানো তার মূল লক্ষ্য ছিল না; বরং দীর্ঘদিন থেকেই তিনি মারাত্মক মাইগ্রেনের রোগে ভুগছিলেন। এই অসুখ থেকে মুক্তি পেতেই তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে এমন একটি বিশেষ ডায়েট অনুসরণ শুরু করেন। আমির জানান, এই খাদ্যাভ্যাসের কারণে তিনি হঠাৎ করেই লক্ষ্য করেন তার ওজন ১৮ কেজি কমে গেছে। এটি স্বাভাবিকভাবেই ঘটে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে মাইগ্রেনের সমস্যা অনেকখানি উন্নতিও হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদরা বলছেন, শরীরে দুরারোগ্য ‘ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন’ বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি হলে ইনসুলিন ও লেপটিন হরমোনের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়। এই সমস্যা মূলত মেদ জমার কারণ হিসেবে বিবেচিত। অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও মানসিক চাপের মাধ্যমে শরীরে এই প্রদাহের সৃষ্টি হয়। আমিরের ক্ষেত্রে প্রদাহবিরোধী খাবারগুলো শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমিয়ে দেয় এবং মেদ ঝরাতে সহায়ক হয়। উল্লেখ্য, এর আগে বলিউডের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা বালানও এই একই পদ্ধতিতে নিজের ওজন কমিয়েছিলেন।
উপবাস ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের জন্য আমির খান তার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে বেশ কিছু উপাদান সম্পূর্ণরূপে বাদ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে চিনিযুক্ত পানীয়, বিশেষ করে কোল্ড ড্রিংকস বা প্রক্রিয়াজাত জুস, রিফাইন অয়েল বা সয়াবিন তেল, ফাস্ট ফুড, প্রসেসড মাংস, দুধ ও দুধজাত পণ্য, পাশাপাশি সাদা চাল, ময়দা ও তার তৈরি খাবার। বাইরের খাবার এড়িয়ে গিয়ে ঘরোয়া, প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার খেয়েই নিজেকে রূপান্তর করেছেন বলিউডের এই সুপারস্টার।




