১৫তম সোশ্যাল বিজনেস ডে উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসার অগ্রগামী নেতা ও উদ্যোক্তাদের সমাবেশে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি অনুষ্ঠানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন, যা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে সামাজিক ব্যবসার গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে।
শুক্রবার (২৭ জুন) সকালে সাভারের জিরাবোতে অবস্থিত সামাজিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে।
ইউনূস সেন্টার এবং গ্রামীণ গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বছরের সোশ্যাল বিজনেস ডে-এর মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সোশ্যাল বিজনেসই সর্বোত্তম পথ’।
প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ইসমাইল সেরাগেলদিন, গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান এবং ইউনূস সেন্টারের রিলেশনস ম্যানেজার জিনাত ইসলামসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।
এই দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য ও সীমাবদ্ধতা দূর করে একটি টেকসই, ন্যায্য ও মানবিক বিশ্ব গঠন করা।
অংশগ্রহণকারীরা পাঁচটি প্লেনারি ও আটটি ব্রেকআউট সেশনে বৈচিত্র্যময় মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছেন। সম্মেলনে ৩৪টি দেশের ১৮০ জনের বেশি বিদেশি প্রতিনিধি এবং সহস্রাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
আলোচকদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সহকারী অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান, মেডট্রনিকের সাবেক সিইও ও চেয়ারম্যান এবং ইন্টেল করপোরেশনের সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান ওমর ইশরাক, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও নরওয়ের সাবেক পরিবেশ ও জলবায়ুমন্ত্রী এরিক সোলহেইম। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারাও এতে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সম্প্রসারিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ২৯ জুন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথভাবে একটি বিশেষ অ্যাকাডেমিয়া ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা উপস্থিত থেকে সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে সমাজে অগ্রগতির ভূমিকা আলোচনা করবেন। একই দিন ৩-জিরো ক্লাব কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো তিন শূন্য – শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ এবং শূন্য বেকারত্ব অর্জন।









