ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ২১ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ, খাদ্য নিরাপত্তায় শক্ত অবস্থান

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমানে এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অন্তর্বর্তী সরকার জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এখন দেশে চাল ও গম মিলে মোট ২১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এই মজুদের তথ্য সরকারী বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টন চাল এবং ১ লাখ ৭৭ হাজার টন গম মজুদ রয়েছে। আরো ৫ লাখ টন চাল ও ৪ লাখ টন গম আমদানি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্য করা হয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত চালের পাইকারী ও খুচরা বাজারে দাম যথাক্রমে ১.২২ টাকা ও ১.০৪ টাকা কমেছে। এ বছর সরকারি উদ্যোগে ৫ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ধান এবং ১৯ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন বেশি।

কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের তথ্যে জানা যায়, জুন ২০২৫ এ মোটা চালের পাইকারী গড় মূল্য ১.৭৩ টাকা বেড়েছে কিন্তু খোলা আটার মূল্য কিছুটা কমেছে। এর বাইরে খুচরা বাজারেও মোটা চালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে আটার দাম কমেছে।

সরকার চলতি অর্থ বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চারটি আধুনিক সাইলো নির্মাণ সমাপ্ত করেছে, যার ফলে খাদ্যশস্য মজুদের ধারণ ক্ষমতা এখন ২৩ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে খাদ্যপণ্য মজুদের পরিমাণ ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪০৮ টন, যার মধ্যে চালের গুদামে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন এবং গমের গুদামে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৩৩৫ টন রাখা আছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, এই মজুদ সন্তোষজনক না হলেও আশঙ্কার কারণ নেই। মজুদ আরও বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে দুই লাখ টন চাল-গম কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ফলে, আশাকরা যায়, শীঘ্রই প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এছাড়া, সাম্প্রতিক বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা কমেছে, যা খাদ্যশস্য মজুদের জন্য ইতিবাচক সংকেত।

পরবর্তীতে, দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় প্রায় ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের লক্ষ্য খাদ্যশস্য উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে মজুদ বাড়ানো। বর্তমানে দেশে ২২ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদের সক্ষমতা রয়েছে, যা আগামী সময়ে ৩০ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া, বর্তমানে সাতটি নতুন সাইলো নির্মাণাধীন রয়েছে, প্রতিটি সাইলো গড়ে ৫০ হাজার টন খাদ্যশস্য ধারণ করবে। যদিও কিছু সাইলো নির্মাণের অবস্থান ভালো নয়, যেমন টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায় ২২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাইলোটি যেখানে মালামাল পরিবহন ব্যয় বেশি হবে। ময়মনসিংহেও ঘটনাচক্রে সাইলোটি একই সমস্যা বহন করছে, তবে রেলপথ নির্মাণ হয়ে যাওয়ায় এসব সাইলো ব্যবহারের মাধ্যমে মজুদের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সরকার গম আমদানী বহুমুখিকরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা, বুলগেরিয়া, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানীর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি অর্থ বছরে আমদানী বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা দেশের খাদ্যশস্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সর্বশেষ, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের খাদ্যশস্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ লাখ টনের বেশি, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় একটি দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।