সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অন্যায় তদবির মেনে না নিলে মিথ্যা অপপ্রচার শুরু হয় বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির আইনি কাঠামোর পর্যালোচনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই আলোচনা সভার আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমার কাছে প্রচুর অন্যায় তদবির আসে। কিন্তু এক্ষেত্রে আমি কখনো সেই অন্যায় তদবির মানি না। সেটি নাকচ করলেই দেখা যায়, যারা অন্যায় তদবির চেয়েছিল, তারা আমাকে ‘ভারতের দালাল’ বলে অপদাস্ত করতে থাকে। ৪০-৫০ বছর পুরনো সম্পর্ক নিয়ে মিথ্যা প্রোগ্রাম বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ঝড় ওঠে। এসব সয়ে যাচ্ছি, মামলা করিনি, কোনো জবাবও দিইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময় নিজেকে এত দুর্বল, শক্তিহীন এবং অবরুদ্ধ অনুভব করেছি কখনোই না। সরকারে যোগ দেওয়ার পর এসব সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছি, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রধান ধারার মিডিয়ায় নয়।’
অধ্যাপক জানান, উপদেষ্টা পর্যায়ের অনেকেই সরকারি সমালোচনায় সবচেয়ে বেশি কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক দুর্বলতা থাকলেও প্রধান উপদেষ্টাসহ অনেকে সেবকের মতো কাজ করার চেষ্টা করছেন।’
অপরাধমূলক মামলা দায়েরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সম্পর্কিত বিষয়ে আমার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাংবিধানিকভাবে আমি এর অধিক কিছু করতে পারি না। কেউ যদি মিথ্যা মামলা দায়ের করে, তবুও আমি করব কী?’
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপবাদ ও মিথ্যাচার ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা কোনো মামলা করিনি, বরং এটি মানুষের বিবেকের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।’
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ এর পেছনে ব্যবসার প্রবণতা খুঁজে পান, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদরা এতে যুক্ত থাকলে এবং পুলিশ যদি দায়িত্বশীল না হয়, তবে এ ধরনের মামলা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও অনেক সময়ে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকেই ভুল করি, কিন্তু প্রতিনিয়ত শিখছি।’
একাত্তর টিভির দুই সাংবাদিকের সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মামলা সাংবাদিকতা করার জন্য নয় এবং মামলাটি স্থানীয় সাধারণ মানুষের করা। জামিনের বিষয় অবশ্যই বিবেচনা হবে, তবে মামলার ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।’
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বদিউল আলম মজুমদার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান, ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষক পারভেজ করিম আব্বাসী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম এ আজিজ, বিএসএম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়ক আবুল হাসান, বিদেশে কর্মরত সাংবাদিক পারভীন এফ চৌধুরী এবং ফ্যাক্টচেকার কদরুদ্দিন শিশির।







