ঢাকা | রবিবার | ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

অ্যাক্সিওস রিপোর্ট: খামেনি ও তাঁর পুত্রকে হত্যার বিকল্প বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এক অস্বাভাবিক ও কড়া অবস্থান নিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তীব্রভাবে উত্তেজিত করেছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে বলা হচ্ছে—তেহরান যদি চিরতরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করার সুস্পষ্ট প্রমাণ না দেখায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনাকে টার্গেট করার পরিকল্পনাও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে। এই ঘোষণার পর কূটনৈতিক সমঝোতা ও সরাসরি সামরিক সংঘাতের মধ্যে ফারাক এখন প্রায় ন্যূনতম হয়ে এসেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন কিছু শর্তে ইরানকে সীমিত পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালাতে দিতে পারে—তবে সেটি তখনই হবে যখন তেহরান পুরোপুরি এবং অকাট্যভাবে পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা পরিত্যাগ করার প্রমাণ উপস্থাপন করবে। ট্রাম্পের উপদেষ্টারা চান এমন কোনো চুক্তি, যাকে প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সফল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন। তবে যদি তেহরান শর্ত পালনে সময় নেবে বা অস্বীকৃতি জানায়, সেখানে পেন্টাগনের কাছে রাখা ‘চরম বিকল্পগুলো’ ব্যবহারযোগ্য বলা হচ্ছে। খবরটি অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগে এধরনের একটি পরিকল্পনা ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের পর থেকে সবচেয়ে বেশি। পেন্টাগন যেকোনো সময় ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সাধারণভাবে জানানো হচ্ছে, এবং এমন খবরও আছে যে মার্কিন বাহিনী চলতি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেই হামলার নির্দেশ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও ধারণা করছে—এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমঝোতার বদলে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা বেশি। বিশেষত মার্কিন নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর উপর কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহড়া তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

তবে তেহরান এখনও কূটনৈতিক রাস্তাই অনুসরণ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, দু’এক দিনের মধ্যে তারা একটি বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব জমা দেবেন। জেনেভায় আলোচনার সূত্র ধরে তেহরান বলছে, ওয়াশিংটন তাদের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণে’ বাধ্য করেনি; বরং তারা পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখার নিশ্চয়তা চেয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এবং তার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিওর ভূমিকাও যুক্ত রয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ বা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের ব্যাপক নজরদারি প্রদানের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে—এগুলো কূটনৈতিক আলোচনা ও নিরীক্ষার প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, তারা তেহরানের লিখিত প্রস্তাব কতোটা বিশদ এবং আন্তরিক তা বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

সামগ্রিক দিক থেকে বলা যায়, বল এখন ইরানের কোর্টে। কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হলে ট্রাম্প যে কোনো সময়ে সামরিক হামলা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্ব সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে।