ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আইজিপি বাহারের বিদায়ী খুদে বার্তা দেশের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে

দেশের পুলিশের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের গুঞ্জনের মধ্যে, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম একটি আবেগপ্রবণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ খুদে বার্তা পাঠিয়েছেন পুলিশের সদস্যদের উদ্দেশ্যে। বুধবার রাতে তাঁর মোবাইল থেকে পাঠানো এই বার্তায় তিনি বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক চার্লস ডিকেন্সের অমর উক্তি引用 করে নিজের দায়িত্বকালকে মূল্যায়ন করেছেন। নতুন সরকারের নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর, প্রশাসনিক স্তরে সংস্কার ও রদবদলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা এই বার্তাকে সম্ভবত তাঁর সম্ভাব্য বিদায়ের স্পষ্ট সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্তায় বাহারুল আলম ইংরেজি ভাষায় চার্লস ডিকেন্সের ‘এ টেল অব টু সিটিজ’ উপন্যাসের শুরুর অংশটি উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়— “এটি ছিল শ্রেষ্ঠ সময়, এটি ছিল সবচেয়ে খারাপ সময়; এটি ছিল প্রজ্ঞার যুগ, এটি ছিল নির্বুদ্ধিতার যুগ; এটি ছিল বিশ্বাসের সময়, এটি ছিল অবিশ্বাসের সময়; এটি ছিল আলোতরু, এটি ছিল অন্ধকারের ঋতু; এটি ছিল আশার বসন্ত, এটি ছিল হতাশার শীত।” শেষাংশে তিনি বিনয়ের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, গত ১৫ মাসে পুলিশ বাহিনীর অর্জিত সাফল্যের পেছনে তাঁর সহকর্মীদের অবদান রয়েছে, আর এই সময়ের ব্যর্থতার জন্য তিনি নিজে দায়ী। শেষে সকলের মঙ্গল কামনা করে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন।

আইজিপির এই বার্তাটি পাওয়ার পর থেকে পুলিশ সদর দপ্তরসহ পুরো বাহিনীর মধ্যে অস্থিরতা ও কৌতূহল বেড়ে গেছে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিককালে আলোচনায় উঠে এসেছে যে বাহারুল আলমকে শিগগিরই তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। বিডিআর হত্যাযজ্ঞের তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনেও তাঁর নাম ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে তাঁর প্রস্থান অনিবার্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এখনো সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন না এলেও, বাহারুল আলমের এই ‘বিদায়ী সুরের’ বার্তা গুঞ্জনের নতুন পালা শুরু করেছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি স্বীকার করেছেন যে, দায়িত্বের শেষ সময়ে পৌঁছে নিজের কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা প্রকাশ করতে পেরেছেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর এখন রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই সময়কালে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই রকম পরিবর্তন ভবিষ্যতের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন প্রভাব ফেলবে, তা এখনই দেখার অপেক্ষা। আপাতত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসন সরকারের পরবর্তী আদেশের মুখিয়ে রয়েছে।