ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি

ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এই অবরোধের কারণে পুরো রাজধানী অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা ‘প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ দ্রুত জারি করা হোক’ এই দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর থেকে সড়ক অবরোধ শুরু করে। তারা সচেতনভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দখলদারির মাধ্যমে রাস্তা বন্ধ করে দেয়, যার ফলে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে এক বিশাল মিছিল নীলক্ষেত অতিক্রম করে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে জড়ো হয়। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে, তারাটিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে—’উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’ ইত্যাদি।

শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান বলেন, ‘আমাদের দাবি খুবই সরল— ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অবিলম্বে জারি করতে হবে। আর কোনো বিলম্ব চালিয়ে যাব না। দাবি মানা না হলে আমরা রাজপথ ছাড়বো না।’

অবরোধের কারণে মহানগরে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সায়েন্স ল্যাব ও মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছেন। এর ফলে গাবতলী থেকে আজিমপুরের আবেগঘন যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, আর তা জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। বহিরাযাত্রা ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা দীর্ঘ পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, যার ফলে শহরজুড়ে তাদের কষ্ট বেড়ে গেছে। এরআগে, মঙ্গলবারের প্রতিবাদেও একই দাবিতে সড়ক অবরোধ হয়, যার কারণে রাজধানীবাসীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে এই সাত কলেজের সংকট সমাধানে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও, শিক্ষার্থীরা এখনও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে অটুট। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অনুমোদন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এটি উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে। নতুন এই প্রস্তাবনায় কলেজগুলোর স্বকীয়তা ধরে রেখে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে শিক্ষাদান কার্যক্রম চালানোর কথা লেখা থাকলেও, শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অধ্যাদেশের আনুষ্ঠানিক জারি দাবি করছেন, যাতে তাদের স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়।