ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় শিক্ষার্থীদের আতিথেয়তার ভিড় বিনোদন ও জ্ঞানার্জনের জলজট

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় শিক্ষা উপকরণে প্রদর্শনী স্টলে শিশু ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মেলাটি চলার সঙ্গে সঙ্গে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের ভিড় বেড়েই চলেছে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ওইখানে সহজেই কারো সহায়তা ছাড়াই বিজ্ঞানবাক্সের মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে তারা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তথ্য সংগ্রহ করে নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি করছে। বিজ্ঞানবাক্সের চাহিদা এতটাই বেশি যে, শুধু শিক্ষা উপকরণ নয়, এগুলোর জন্যও ব্যাপক বিক্রয় চলছে। বর্তমানে শিশুরা মোবাইল ও কম্পিউটার নির্ভরতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়লেও, এই শিক্ষামূলক উপকরণ তাঁদের চিন্তা শক্তি বিকাশে সহায়ক হচ্ছে। তারা খেলতে খেলতে বিজ্ঞান শেখার এই অনন্য উপায়টি দর্শন করছে, যা তাদের মানসিক বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রূপগঞ্জের আব্দুল হক ভুঁইয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক দিপু রহমান বিজয় ও আমির হোসেন মেলা থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসে বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরছেন। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষামূলক উপকরণ ও বিজ্ঞানবাক্সের স্টলে নিয়ে আসছেন। সেখানে শুধু তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরাই নয়, বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরাও ব্যাপক আগ্রহে উপকরণগুলো দেখছেন।

মেলায় বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রকরণে বিজ্ঞানবাক্স প্রদর্শন ও বিক্রি হচ্ছে। চুম্বকের ২৬টি মজার খেলা, ক্যাপ্টেন কিউরিয়াসের নানা সায়েন্স গেম, তড়িৎ, তাপ ও আলোর ২০টি রোমাঞ্চকর খেলনা, আদিবাসী চাইনিজ পাজল, ২০টি ফোকাস চ্যালেঞ্জ, রসায়নের রহস্য, অদ্ভুত মাপজোখ, স্মার্টকিট, শব্দকল্পসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মডেল উপভোগ্য ও শিক্ষাজনক হিসেবে সম্মুখে আসছে। মহাকাশ ও সৌরজগৎ বিষয়ক নতুন বিজ্ঞানবাক্স শিশুরা আগ্রহের সঙ্গে দেখছে এবং নিজের হাতে গবেষণা করছে। এর সঙ্গে মেলায় আরও অন্যান্য শিক্ষামূলক উপকরণের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বিরামহীন।

নাসিমা ইয়াসমিন, বিজ্ঞানবাক্স বিক্রয় প্রতিনিধি, বলেন, ‘বয়স অনুযায়ী নানা রকম বিজ্ঞানবাক্স তৈরি করা হয়েছে। সাত থেকে ষোলো বছরের শিশুদের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত, কিন্তু চার থেকে ছয় বছরের শিশুরাও এতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সকলে তাদের জ্ঞানে সমৃদ্ধ হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই প্যাভিলিয়নে ব্যাপক ভিড় ও বিক্রয় ব্যস্ততা চলছেই।

এদিকে, মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের অপারেশন ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম হৃদয় জানান, ‘স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ও শিশুদের জন্য টিকেটের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে মাত্র ২৫ টাকা। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও আহত ব্যক্তিরা কার্ড দেখিয়ে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারছেন।’

মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি রাষ্ট্র এই মেলায় অংশগ্রহণ করছে এবং বিভিন্ন প্রদর্শনী ও কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এই আয়োজনটি শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও বিনোদনের লোভনীয় কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।