ঢাকা | মঙ্গলবার | ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তদন্তে ৩০ জন অভিযুক্ত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। তদন্তে মোট ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম নিশ্চিত করেন যে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই প্রতিবেদনে ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে আগামী রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে দাখিল করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

এর আগে, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বাধীন কমিটি এই মামলায় চার আসামিকে উপস্থিত করার আদেশ দেয়। পুলিশ সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে ১৮ জুন এবং বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশকে ১৯ জুন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রাইব্যুনাল-১ অনুমতি দেয়।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার সময়, ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।

২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। তার নিরস্ত্র অবস্থায় পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ উঠে, যা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে আরো সক্রিয় করে তোলে।

উল্লেখ্য, ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।