ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আমের পচন রোগে চাষি ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের ছায়া

মেহেরপুর জেলায় চলতি মৌসুমের শেষ দিকে আমের অজানা এক পচন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যা আম চাষি এবং ব্যবসায়ীদের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুরুতে এ রোগের উপস্থিতি না থাকলেও, পরিপক্ব আম গাছ থেকে সংগ্রহের মাত্র ২-৩ দিনের মধ্যে ডাঁটার অংশ থেকে পচন শুরু হয়ে আম দ্রুত খাওয়ার অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আমের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং চাষিরা প্রচণ্ড হতাশায় পড়ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই রোগটি ছত্রাকজনিত ‘স্টেম-এন্ড রট’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা গাছে থেকেই পচন শুরু করে। এর আগে এই এলাকায় এ ধরনের রোগ দেখা যায়নি বলে তারা জানান। মেহেরপুর জেলায় মোট ২৩৬৬ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয় এবং এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫,৫১০ মেট্রিক টন। যদি এক হাজার মেট্রিক টন আম পচে যায়, তাহলে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড়শ কোটি টাকার মতো হতে পারে, যা চাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা।

আম চাষিরা জানিয়েছেন, গাছ থেকে আম সংগ্রহের মাত্র দুই তিন দিনের মধ্যেই পচনের শুরু, যা সম্ভবত আবহাওয়াজনিত ছত্রাক বা ভাইরাসের সংক্রমণের ফল। বিভিন্ন বাজার ও গ্রাহকের বাড়িতে আম কিনে নেওয়ার দুই দিনের মধ্যে পচন ধরা পড়ছে। গড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা শিখা বেগম জানান, ‘‘বাজার থেকে হিমসাগর আম কিনে এনেছিলাম, দু’দিনের মধ্যেই আম পচে গিয়েছে, বাধ্য হয়ে আমাকে ফেলে দিতে হয়েছে।’’

কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রিয়জনদের কাছে পাঠানো আমও নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাংনী উপজেলার নিশিপুর গ্রামের আম বাগান মালিক হোসেন আলী বলেন, ‘‘আম গাছে কালো আবরন পড়ে যাচ্ছে এবং পাড়ার মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যে পচন শুরু হচ্ছে। সব আম একযোগে পেকে যাওয়ার কারণে কৃষকের আশা ভেঙে যাচ্ছে।’’

আম ব্যবসায়ী সিহাব জানান, ‘‘আমরা বাগান মালিকদের কাছ থেকে আম সংগ্রহ করি, তবে এখন আম এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই পচে যাচ্ছে। বিশ কেজির ডাকিতে প্রায় দুই কেজি পচা আম বের হচ্ছে। এমন অবস্থায় ব্যবসা চালানো খুব কঠিন।’’ আম ক্রেতা রাজিবুল হকও বলছেন, ‘‘আমি তিনদিন আগে দশ কেজি আম কিনেছিলাম, অধিকাংশ আম পাকা না হয়ে পচে গেছে।’’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামসুল আলম জানান, ‘‘আবহাওয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণ এই রোগের কারণ হতে পারে। তবে আম সংগ্রহের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে গাছে ওষুধ ব্যবহারে বিরত থাকতে হয়। এ পর্যন্ত কোথাও লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় মাঠপর্যায়ে বিশদ তদন্ত শুরু হয়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।’’

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দ্রুত রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরবর্তী মৌসুমের আম উৎপাদনেও হুমকি দেখা দিতে পারে। মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক নজরদারি, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ জরুরি। কারণ মেহেরপুরের হিমসাগর আম বর্তমানে জিআই পণ্যের মর্যাদা পেয়েছে, ফলে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।