ঢাকা | রবিবার | ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ইউরোপের ৮ দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন ঘোষণা দিয়েছেন যে, যদি তার দেশের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনার কোনও চুক্তি হয় না, তাহলে পর্যাপ্ত শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ইউরোপের আটটি দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন। শনিবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

ট্রাম্প বলেছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড এবং গ্রেট ব্রিটেন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে কোনও চুক্তি গৃহীত না হয়, তবে শুল্কের হার ১ জুন থেকে আরও বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং সেখানে থাকা বিপুল খনিজ সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আবার সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে শক্তি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ডেনমার্কের অনুরোধে কিছু ইউরোপীয় দেশ দ্বীপটিতে সামরিক শক্তি পাঠিয়েছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য।

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনার বিপরীতে তিনি কোনও সমাধান দেখছেন না। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা তাদের অবস্থানে অটল, দ্বীপটি বিক্রির কোনও পরিকল্পনা নেই এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নন।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন ট্রাম্পের এই ঘোষণা বিস্ময়কর বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ন্যাটোর নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাজ্যের মতো দেশের ওপরে শুল্ক চাপানো ভুল সিদ্ধান্ত।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডেনমার্কের বিশাল আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অস্বস্তি ও বিতর্ক বেড়ে গেছে। ট্রাম্পের এই দাবির প্রতিরোধে শনিবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। তারা দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নিজস্ব সিদ্ধান্তের দাবি জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান।