ঢাকা | সোমবার | ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ইন্দোনেশিয়ায় প্লেনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার, নিখোঁজ ১১

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের এক পাহাড়ি অঞ্চলে নিখোঁজ ছোট প্লেনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। এই প্লেনটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় ধারণা করা হচ্ছে যে এটি একেবারেই দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে পড়েছিল। বিমানটিতে মোট ১১ জন আরোহী ছিলেন, তার মধ্যে আটজন ছিল ক্রু সদস্য এবং তিনজন ছিলেন সামুদ্রিক বিষয় ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অফিসার। তারা আকাশপথে সামুদ্রিক নজরদারি মিশনের অংশ হিসেবে যাত্রা করছিলেন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) ধরপাকড় নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাকার্তা থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসার দিকে যাত্রার পর প্লেনটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

মাকাসার অনুসন্ধান ও উদ্ধার দফতরের প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানান, রোববার সকালে বিমানবাহিনী হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধারকারী দল মাউন্ট বুলুসারাউংয়ের অবস্থান থেকে ঝারির মধ্যে একটি বিমানের জানালা দেখতে পায়। এরপর তারা সেখানে গিয়ে মূল কাঠামো ও এর বড় অংশ উদ্ধার করে, যা পাহাড়ের উত্তরের খাড়া ঢালে ছড়িয়ে ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রধান অংশগুলোর সন্ধান পাওয়ায় অনুসন্ধান এখন আরও সীমিত করা সম্ভব হয়েছে। এখন দলের মূল লক্ষ্য হলো যাত্রী ও ক্রুদের খুঁজে পাওয়া, বিশেষ করে যদি কেউ জীবিত থাকেন। এই সময় তাদের উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিমানটি ছিল একটি টার্বোপ্রপ এটিআর-৪২-৫০০, যা ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট পরিচালনা করছিল। শেষবার এই প্লেনটি দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস জেলার পাহাড়ি এলাকা লিয়াং-লিয়াংয়ে শনাক্ত হয়।

দক্ষিণ সুলাওয়েসি হাসানউদ্দিন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল বাঙ্গুন নাওকো জানিয়েছেন, প্রবল বাতাস, ঘন কুয়াশা ও দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি কারণে উদ্ধার অভিযান কিছুটা ব্যাহত হলেও দুর্দান্ত সাহসিকতার সাথে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা ঘন কুয়াশায় ঢাকা সরু ও খাড়া পাহাড়ি পথে হেঁটে ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি দেশ। যোগাযোগের জন্য তারা মূলত ছোট প্লেন, ফেরি ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবহারে নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি বেশ কয়েকটি বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে, যাতে প্লেন, বাস ও ফেরি ডুবে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।