ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানে হামলা বন্ধ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদ ও দেশটিতে চলমান সামরিক হামলার তীব্র নিন্দায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার দুপুরে সংগঠিত এই সমাবেশে দলটির নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে হামলা দ্রুত বন্ধ করা না হলে জামায়াত ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করবে। তিনি একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বে ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের আহ্বান জানান।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম সমাবেশে বলেন, ইরানের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংঘটিত এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা সম্পূর্ণভাবে গণতন্ত্রবিরোধী। জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সংকটকালে তারা ইতিবাচক ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষ এসব সংস্থাকে প্রত্যাখ্যান করবে। বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

দলের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মুসলিম বিশ্বে এই ধরনের আগ্রাসন বন্ধে জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। তিনি সরকারকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে (১২ মার্চ থেকে) খামেনি হত্যার ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা প্রস্তাব দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান।

সমাবেশে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাও তীব্র নিন্দার যোগ্য উল্লেখ করা হয়। মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন যে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মুসলিম দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে এবং খামেনির হত্যাকাণ্ড কেবল ইরানের জন্য নয়, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বড় ধাক্কা। তারা মুসলিম নেতাদের ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে আসার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে বড় একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে শুরু করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশ নেওয়া জামায়াত কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেন এবং পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।