ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ইরান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব দিতে পারে

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের পূর্ণ অধিকার রয়েছে মার্কিন হামলাকে যেকোনো মুহূর্তে পাল্টা জবাব দেয়ার। গত ১৩ জুন ইসরায়েল হঠাৎ করে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে, যার পর থেকেই তেহরান ও তেল আবিব আকাশপথে একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে।

ইসরায়েলের এই আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিস্থিতিতে জড়িয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের সহযোগিতায় নাতানজ, ইসফাহান ও ফোরদোর পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে। যদিও ইরানও এই হামলা স্বীকার করেছে, এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে তা নিয়ে।

বিবিসির নিরাপত্তা প্রতিবেদক ফ্রাঙ্ক গার্ডনার মতে, ইরানের সামনে তিনটি পন্থা রয়েছে। প্রথমটি হলো কোনো প্রতিক্রিয়া না দেয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা পাল্টা হামলা চালালে আরও কঠোর জবাব পাবেন। তাই এখন কিছু না করলে মার্কিন হামলা বৃদ্ধি পাবে না এবং কূটনৈতিক পথও জোরদার হতে পারে। কিন্তু এতে ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বলতার সম্মুখীন হবে এবং এর ওপর আস্থা কমে যাবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব খর্ব করবে।

দ্বিতীয় বিকল্প হলো দ্রুত ও কঠোর পাল্টা হামলা চালানো। ইরানের কাছে এখনও ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা প্রায় ২০টি মার্কিন ঘাঁটিকে নিশানা করতে পারে। তারা ড্রোন ও টর্পেডো নৌযান ব্যবহার করে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোতে আঘাত হানতেও সক্ষম।

গার্ডনারের তৃতীয় বিকল্প হলো সময় নেয়া, উত্তেজনা কমার জন্য অপেক্ষা করা এবং এমন সময় পাল্টা হামলা চালানো যখন মার্কিন বাহিনী কম সতর্ক থাকবে।

ইরান ও তার মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থে ক্ষতি করবে যদি এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ইরান ও তার প্রতিরোধ অক্ষের সামরিক ক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক যুদ্ধে তাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

ডেভিড ফিলিপস, যিনি ক্লিনটন, বুশ এবং ওবামা প্রশাসনে উচ্চ পদে কাজ করেছেন, তিনি মনে করেন, ট্রাম্প সরকারের নির্দেশনায় এই হামলা ইরানের মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থে পাল্টা হামলার পথ খুলে দিয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং পাল্টা হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফিলিপস আরও বলেন, ‘ইরান এই হামলা কেবল ইসরায়েল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেও পেয়েছে। তারা প্রতিশোধের পথ খুঁজবে এবং তাদের মনোযোগ থাকবে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, লোহিত সাগরে থাকা মার্কিন সেনা এবং অন্যান্য আমেরিকান স্বার্থের ওপর।’

অ্যাডাম উইনস্টেইন, কুইন্সি ইনস্টিটিউটের মিডল ইস্ট প্রোগ্রামের উপপরিচালক, বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী এক যুদ্ধে পরিণত হওয়ার পথে। ইরান ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে এবং এনপিটি (পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি) থেকে বের হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।

উইনস্টেইন মনে করেন, এই সংঘাত এখানেই শেষ হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যার সূচনা সে নিজেই করেছে। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।