ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইরান: যুক্তরাষ্ট্র হামলা না করলে পরমাণু আলোচনা আবার শুরু হবে

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা দিতে পারে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে রাজি। তিনি শনিবার (১২ জুলাই) তেহরানে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে এ কথা জানান।

আরাগচি বলেন, “ইরান সবসময় সংলাপের জন্য প্রস্তুত। ভবিষ্যতেও থাকবে, কিন্তু আলোচনার পথ যেন যুদ্ধ বা আক্রমণের দিকে না গড়ায়, সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা থাকতে হবে।” তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে চলা ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে তেল আবিবের হামলা এবং ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পক্ষ আলোচনা শুরু করতে চায়, তাদের অবশ্যই প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে যে, ভবিষ্যতে আর হামলা হবে না। পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা আলোচনা আরও কঠিন করে তুলেছে।”

হামলার পর ইরান জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ’র সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়, যার ফলে পরিদর্শকরা ইরান ত্যাগ করতে বাধ্য হন। আরাগচি জানান, এখন থেকে আইএইএ’র যেকোনো অনুরোধ ইরান ‘ঘটনাভিত্তিক ও স্বার্থ বিবেচনায়’ মূল্যায়ন করবে। এছাড়া ভবিষ্যতে পরিদর্শন ইরানের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও সতর্ক করেন যে, যুদ্ধকালে ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে অব্যবহৃত বিস্ফোরক ও বিকিরণযুক্ত পদার্থ ছড়িয়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরান নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, এজন্যই তারা হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইএইএ বলছে, ইরান ২০০৩ সালের পর পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য সংগঠিত কোনো কর্মসূচি পরিচালনা করেনি। তবু ইরান ইতোমধ্যে ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে, যা অস্ত্র নিমেষে পরিবাহিত ৯০ শতাংশের খুব কাছে।

এদিকে, গত সোমবার (৭ জুলাই) ইরানের প্রেসিডেন্ট এসেছি মাসউদ পেজেশকিয়ান এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ এখনো মূল্যায়ন করা হয়নি।