ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ই-জিপি সিস্টেমে দরপত্রের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ লাখ

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রোকিউরমেন্ট) সিস্টেমের মাধ্যমে আহ্বানকৃত দরপত্রের সংখ্যা, দরদাতা এবং ক্রয়কারী সংস্থার নিবন্ধনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই তথ্য জানানো হয়েছে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

ই-জিপি সিস্টেমটি ২০১১ সালে চালু হওয়ার পর থেকে দেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। এটি একটি কেন্দ্রীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা সহজ ব্যবহারযোগ্য ইন্টারফেস, দ্রুত কার্যক্রম এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। দরদাতা ও ক্রয়কারী সংস্থাগুলোর জন্য এটি মূলত অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১১ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ই-জিপি সিস্টেমের মাধ্যমে আহ্বানকৃত দরপত্রের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এ পর্যন্ত মোট দরপত্রের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। এর আগে, ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট দরপত্রের সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৭৭ হাজার, যার মোট মূল্য ছিল ৯ লাখ ২২ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা।

বিশেষ করে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে এক মাসের মধ্যে ২৩ হাজার দরপত্র আহ্বান নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে। এটি ই-জিপির মাধ্যমে এক মাসে সবচেয়ে বেশি দরপত্র আহ্বানের রেকর্ড।

সংক্রান্ত সূত্রগুলো বলছে, এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়া পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর, ২০২৫)। নতুন এই বিধিমালায় সব সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বর্তমানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০টি নিবন্ধনের আবেদন আসছে বিপিপিএ-তে। আগে যেখানে দিনে গড়ে ৬০ থেকে ৭০টি আবেদন হতো, সেখানে এখন অনেক বেশি অনুরোধ পাওয়া যাচ্ছে।

তুলনামূলক তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ই-জিপিতে নিবন্ধিত দরদাতার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭৪ জন, যা ২০২৪ সালের নভেম্বরে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৭৭৭। একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১১ সালে সিস্টেম চালুর এক বছর পরে ২৩ হাজার দরদাতার নিবন্ধনের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছিল, যা আগে দেখা যায়নি।

অপর দিকে, নিবন্ধিত ক্রয়কারী সংস্থার সংখ্যা ২০২৪ সালের নভেম্বরের ১ হাজার ৪৭৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৯৯। ক্রয়কারীর সংখ্যা এক বছর আগে ছিল ১২ হাজার ৬০২, যা বর্তমানে ১৪ হাজার ৩৭৪ এ পৌঁছেছে।

বিপিপিএ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ উল্লেখ করেছেন, পিপিআর, ২০২৫ এর প্রণয়ন ও কার্যকরীকরণ সরকারের সরকারি ক্রয় সংস্কার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিধিমালা সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত করবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমূল্যের অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন সরকারি কাজের জন্য। পিপিআর, ২০২৫ এর কার্যকরী ফলে সরকারের অপ্রয়োজনীয় দুর্নীতি, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।