হাইকোর্ট ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ধারা ৬(গ) কেন অসাংবিধানিক বা অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে দেশে ইতোমধ্যে আমদানি করা ভ্যাপ ও ই-সিগারেট জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা হবে না—এমন স্থিতাবস্থা দেখিয়ে বাণিজ্য সচিব ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের এ আদেশ বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন এবং আমদানি করা ভ্যাপ ও ই-সিগারেট জব্দে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
রিটে মসদুজ্জামানসহ মোট ৪১ জন ব্যবসায়ী ধারা ৬(গ) চ্যালেঞ্জ করেছেন। শুনানির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী জানান, ধারা ৬(গ) ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ও ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস নিষিদ্ধ রাখে এবং তার ওপর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিষেধ আরোপ করে।
আইনের উপধারা (১)-এ বলা আছে, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম এবং তার যন্ত্রাংশ বা অংশবিশেষ (যেমন ই-সিগারেট, ভ্যাপ, ভ্যাপিং, ভ্যাপার ও ই-লিকুইড), হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টস বা অন্যান্য ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস—যে নামেই অভিহিত হোক না কেন—উৎপাদন, আমদানি, রফতানি, সংরক্ষণ, বিজ্ঞাপন, প্রচার-প্রচারণা, প্রণোদনা, পৃষ্ঠপোষকতা, বিপণন, বিতরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন করা যাবে না বা করাতে দেওয়া যাবে না।
উপধারা (২)-এ উল্লেখ আছে, এই বিধান লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়ে দণ্ড প্রসাদ্য হবে। একই ধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্ত হলে পর্যায়ক্রমে শাস্তির পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে।
আদালতের এই নির্দেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কাস্টমস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে স্থিতাবস্থা মেনে চলতে বলা হয়েছে, যাতে ইতোমধ্যে দেশে আসা ভ্যাপ ও ই-সিগারেট জব্দ না করা হয় এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশ পর্যন্ত বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে পর্যালোচনা করা যায়।








