ঢাকা | শুক্রবার | ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৪শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ঈদবাজারে আশা—নিরাশা: কেনাকাটায় নেই আগের উচ্ছ্বাস

পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে এসেও দেশের ফ্যাশন হাউসগুলোতে আশানুরূপ কেনাকাটা দেখা যাচ্ছে না। রমজানের তিন সপ্তাহ পার হওয়ার পরও হঠাৎ করে মানুষের মধ্যে আগের মতো হুড়োহুড়ি নেই। দেশের প্রায় ৫ হাজারের বেশি ছোট-বড় ফ্যাশন হাউস এবং কয়েকশো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড এই উৎসব মৌসুমের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করে—তারা এতদিন ধরে উৎসবে বড় অংশ বিক্রির আশা করে—but এবারে বাজারের চিত্র বেশ মিশ্র এবং খানিকটা হতাশাজনক।

জনপ্রিয় ব্র্যান্ড টুয়েলভ, লা রিভ, আড়ং, ক্যাটস আই, রঙ বাংলাদেশ ইত্যাদির সংগ্রহে নতুনত্ব থাকলেও গ্রাহকদের মধ্যে আগের মতো তীব্র কেনাকাটার ঢেউ দেখা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ছিল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নতুন সরকার গঠনের পরে বাজার দ্রুত সচল হয়ে উঠবে, কিন্তু বেচাবিক্রিতে ভিন্নধর্মী ধীরগতি এবং মিশ্র প্রবণতা দেখা যাইছে।

অনেক ফ্যাশন উদ্যোক্তা গাণিতিকভাবে আশা করেছিলেন যে গত বছরের তুলনায় এবারে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধি পাবে। সেই প্রত্যাশায় রাজধানীর নামি-দামী শপিং মল থেকে শুরু করে অলিগলির আউটলেটগুলো সাজানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ক্রেতারা ধীরে ধীরে, ভাবেশূন্য করে কেনাকাটা করছেন। বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুর, এলিফ্যান্ট রোড ও আজিজ মার্কেটসহ বিভিন্ন শপিং জোনে দেখা যায় লোক আছে—তবু ভিড় নেই; অনেক ক্রেতা জামাকাপড় পরীক্ষা করে দাম ও মান বিচার করে তারপর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আগের বছরগুলোর মতো মাসের শেষের তীব্র হুড়োহুড়ি এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত। বর্তমান গুমোট আবহাওয়াও মানুষকে হালকা ও সুতি কাপড়ের দিকে টেনে নিচ্ছে।

এবার ফ্যাশন হাউসগুলো আধুনিক আর দেশি ঐতিহ্যের ফিউশনকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তবু অঞ্চলভেদে বিক্রির চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর কিছু প্রতিষ্ঠিত আউটলেট এখনও আশার তুলনায় ভালো বিক্রি করতে পারেনি এবং বাজারকে অনিশ্চিত বলে বর্ণনা করেছেন দোকানিরা। অন্যদিকে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে—এগুলো মূলত নির্দিষ্ট গ্রাহকগোষ্ঠীর মধ্যে ব্র্যান্ড আস্থার রেশে সম্ভব হয়েছে।

কাপড়ের চাহিদায় মেয়েদের থ্রি-পিস ও টু-পিসের আগ্রহ সর্বোচ্চ। সিল্ক, খাদি ও বয়েল থাকলেও সুতি পোশাকই সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়েছে। ছেলেদের মাঝে বড় পরিবর্তন না আসলেও আধুনিক কাটিংয়ের পাঞ্জাবি ও পাজামার চাহিদা অটুট রয়েছে। পাইকারি বাজারের মন্থরতা সরাসরি খুচরা বাজার ও শোরুমকে প্রভাবিত করছে; অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার মূল্যের দিকে বেশ চৌকস হয়ে কেনাকাটা করছেন এবং তুলনামূলক বাজেটে ভালো কিছু খোঁজার জন্য বিভিন্ন মার্কেট ঘুরছেন।

ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং নিত্যপণ্য মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি ফ্যাশন সেক্টরে চাপ তৈরি করছে। রঙ বাংলাদেশের মতো কিছু প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি বিক্রি করলেও সামগ্রিকভাবে বাজার পুরোপুরি সজীব হয়নি। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ঈদর শেষ কয়েক দিনের সম্ভাব্য শেষ মুহূর্তের ভিড় না এলে উৎসবনির্ভর এই বড় বাজারে ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়বে।

সংক্ষেপে বলা যায়, এবারের ঈদ কেনাকাটায় আস্থাহীনতার ছাপ পরিস্কারের পথে নেই—পরিস্থিতির উন্নতি নির্ভর করছে সামনে কয়েক দিনের ক্রেতা উপস্থিতি ও চটপটে পদক্ষেপের ওপর।