ঢাকাই শোবিজে এবার ওপার বাংলার নতুন আগমন—নতুন প্রজন্মের নায়িকা সৃজা দত্ত যোগ দিয়েছেন। গত রোজার ঈদে জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু ও সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়ের ঢালিউড অভিষেকের পরে এবারও একটি ওপার বাংলার প্রজেক্ট বাংলাদেশি দর্শকের সামনে আসছে। আগামী ঈদুল আজহার দিন ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘বঙ্গ’-এ মুক্তি পাচ্ছে ওয়েব ফিল্ম ‘তাজমহল’, যেখানে কেন্দ্রীয় নায়িকা হিসেবে দেখা যাবে সৃজাকে।
সৃজা দত্ত টলিউডে দেবের বিপরীতে ‘বাঘা যতীন’ ও ‘টেক্কা’ সিনেমায় কাজ করে ওপারে ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। ‘তাজমহল’-এ তিনি মুমতাজ চরিত্রে অভিনয় করেছেন; অপর প্রান্তে ‘তাজ’ চরিত্রে আছেন অভিনেতা ফাইজুল ইয়ামিন। ইয়ামিন মডেলিং দিয়ে তার ক্যারিয়ার শুরু করলেও পড়াশোনার কারণে দীর্ঘ সময় প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি গত বছর নাটকের মাধ্যমে নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন এবং রোজার ঈদে মুক্তিপানো ‘প্রেশার কুকার’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটিয়েছেন। এই প্রথম সৃজা ও ইয়ামিন একসাথে জুটি বেঁধে পর্দায় নতুন রসায়ন তৈরি করতে যাচ্ছেন, যা দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
চিত্রনাট্য ও পরিবেশের ভিত্তিতে ছবিটি সিলেটের সীমান্তবর্তী মনোরম এক অঞ্চলে শুট হয়েছে। প্রায় এক দশক পর নির্মাণে ফেরার ছাপ নিয়ে পরিচালক ওয়াহিদ আনাম এই প্রজেক্টটি করেছেন। নির্মাতারা বলেন, ‘তাজমহল’ কোনো জটিল থ্রিলার নয়—এটা একটি নির্মল রোমান্টিক গল্প, যেখানে হিংসা বা বড় ধরনের সংঘাতের চিত্র নেই। বরং প্রেম, পরিবারের বন্ধন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার অনুভূতিকে শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রোমান্সের পাশাপাশি কমেডি ও নাটকীয় মোড়ও সেখানে থাকবে, যা গল্পকে সহজেই দর্শকের সঙ্গে জোড়া লাগাবে।
সৃজা দত্ত ভারতের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-র ‘নিশির ডাক’ সিরিজে তার মেধা দেখিয়েছেন। বাংলাদেশি এই কাজে যোগ দেওয়ার পর এবং দীর্ঘ বিরতির পর আবার কাজে ফিরায় পরিচালক ওয়াহিদ আনাম জানান যে দীর্ঘ বিরতির সময় তার সৃজনশীলতা আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, সিলেটের প্রতিকূল পরিবেশে কাজ দ্রুত শেষ করতে টিমের প্রত্যেকেই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং অভিনেতারা তাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
‘তাজমহল’ আগামী ঈদুল আজহা থেকে ‘বঙ্গ’ অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে বিশ্বব্যাপী দেখা যাবে। সৃজা দত্ত ও ফাইজুল ইয়ামিন ছাড়াও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন এ. কে. এম. হাসান এবং মালিহা মেধা। সহজ-সরল প্রেম আর ঘরের টানাপোড়েনের মিশেলে গড়া এই ওয়েবফিল্মটি ওটিটি দর্শকদের ঈদ বিনোদনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।







