এক সময় টেলিভিশন নাটকের দীর্ঘসূত্রি উপস্থিতি দিয়ে দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করা চঞ্চল চৌধুরী এখন ওটিটি ও সিনেমা উভয় মাধ্যমেই বেশি সক্রিয়। এবারের ঈদুল ফিতরে ভক্তদের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে তার তিনটি ছবি মুক্তির তালিকায় রয়েছে। আসন্ন উৎসবকে সামনে রেখে এই বহুমুখী অভিনেতার নতুন কাজ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ — যাত্রাপথে গড়া একটা গল্প
তানিম নূর নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে করা ছবিটি যাত্রাপথের রোমাঞ্চ ও মানবীয় আবেগকে কেন্দ্র করে এগোয়। ছবির বেশিরভাগ দৃশ্য ট্রেনের ভেতরেই অনায়াসে ধরা পড়েছে এবং গল্পের আকাশ ছুঁতে ট্রেনের পাশাপাশি হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়েছে। চঞ্চল বলেন, “হুমায়ূন আহমেদের গল্প চুম্বকের মতো টানে। তিনি তো গল্পের জাদুকর। তাঁর উপন্যাস থেকে চমৎকার একটি চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে।” মোশাররফ করিম ও বাঁধন সহ আরো অনেক চরিত্র নিয়ে কাজ করা এই ছবিতে, চঞ্চল যোগ করেন, “এখানে প্রতিটি চরিত্রেরই গুরুত্ব আছে—গল্পটাই আসল নায়ক।”
‘দম’ — শীত ও সংগ্রামের মহানুভব ছবি
রেদওয়ান রনির পরিচালিত ‘দম’ সিনেমাটির দৃশ্যধারণ হয় কনকনে শীতের কাজাখস্তান ও পাবনার গ্রামীণ পরিবেশে। আফরান নিশো, পূজা চেরি ও চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত এই ছবিটি চঞ্চলকে অন্যরকম মাত্রায় কাঁপিয়ে তুলেছে। তিনি বললেন, “’দম’-এর গল্পটা প্রচণ্ড সংগ্রামের। আফরান নিশো অসাধারণ অভিনয় করেছেন, সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।” আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি জুড়ে বড় ক্যানভাসে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য অনন্য। মাইনাস দুই-তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শুটিং করা, শীতের পোশাকে সব দৃশ্য করা যায়নি—এমন প্রতিকূলতায় পুরো টিমকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছিল। তবু এমন কাজে অংশ নিয়ে তিনি তৃপ্তি প্রকাশ করেন।
‘প্রেশার কুকার’ — নারীপ্রধান গল্পে বিশেষ উপস্থিতি
রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ ছবিতেও চঞ্চলকে একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে। নারীপ্রধান এই ছবির কেন্দ্রে আছেন শবনম বুবলী ও নাজিফা তুষি। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি, সূত্রে জানা গেছে চঞ্চল এখানে গুরুত্বপূর্ণ এক সংযোজন হিসেবে থাকবেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংগীতভূমিকাও
চঞ্চল ইতিমধ্যেই রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’ ছবির কাজ শেষ করেছেন এবং লিসা গাজীর ‘শাস্তি’ সিনেমায় পরীমণির বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিনয় ছাড়াও তিনি ব্রাত্য বসুর ‘শেকড়’ ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন; সেখানে তিনি দুটি বাউল গান গেয়েছেন—‘এই পৃথিবী যেমন আছে তেমনি ঠিক রবে’ এবং ‘ও জীবন রে, ছাড়িয়া না যাও মোরে’।
চঞ্চলের এই বহুমুখী প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিনোদন অঙ্গন ও ভক্তরা আগ্রহে অপেক্ষায়। প্রত্যেক ছবিতেই তাঁকে ভিন্ন রূপে দেখা যাবে—অভিনয়, সুর আর সাহসিকতার মিশেলে দর্শকরা নতুন চঞ্চল আবিষ্কার করবেন বলে ধারণা অনেকের।








