ঢাকা | শুক্রবার | ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

এক দিনের ব্যবধানে বিমা খাতে বড় পতন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দরপতন

দেশের শেয়ার বাজারে এক কার্যদিবসের মধ্যে বিপুল পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। পূর্বের দিন ভালো পারফরম্যান্সের পর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিমা খাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানীর শেয়ারে মনোভাবের পরিবর্তন দেখা গেছে, যার ফলে দরপতনের প্রবণতা সূচেকটিকে নিম্নমুখী করে তোলে। এই দরপতনের ফলে দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এদিনটি ছিল অপ্রত্যাশিত, যখন ডিএসইতে অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমেছে, আর মূল সূচকও ডুবেছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে, যা বাজারে কিছুটা ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) যদিও দাম কমার তালিকায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ছিল, সেখানে সূচকটি সামান্য উঠেছে, তবে লেনদেনের পরিমাণ কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে শেয়ার বিক্রির শুরুতে বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির দরের বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে, যার জন্য সূচকও কিছুটা বাড়ছিল। তবে দিনের শেষে এসে দেখা গেল, অনেক প্রতিষ্ঠানীয় শেয়ারের দাম নাটকীয়ভাবে পতিত হয়েছে, যা গতিপথ বদলে দিয়েছে। এর ফলে অন্যান্য খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দিন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে শুধু ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, যেখানে ২২০টির দাম কমেছে এবং ৬৮টি অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে কয়েকটি তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৬টির শেয়ার দাম বাড়লেও ৪৯টির দাম কমেছে এবং দুটির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

উচ্চ মানের কোম্পানি বা যেগুলি ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেয়, তাদের মধ্যে ৫২টির শেয়ার দাম বেড়েছে, কিন্তু ১২১টির দাম কমেছে। মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি খুব ভালো নয়। এছাড়াও, ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানিগুলোর মধ্যে যেখানে লভ্যাংশ দেয় না, সেগুলোর মধ্যে ৩৬টির দাম বেড়েছে, আবার ৪৪টির দাম কমেছে। বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ার দর কমে যাওয়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স তা থেকে ৭ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ৯৯৫ পয়েন্টে থাকলেও, ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বাড়ে এবং ১ হাজার ৯১২ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

বাজারের সূচক কমলেও টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৭৯ core ৮০ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা বেশি। এর ফলে চলমান চার কার্যদিবস ধরে ডিএসইতে বিনিয়োগ-লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ওপরে থাকল। লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার। এরপরই রয়েছে সিটি ব্যাংক ও এপেক্স স্পিনিং। লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন, মালেক স্পিনিং, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, এবং সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

অপরদিকে, দেশের অন্য শেয়ার বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই ৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই বাজারে লেনদেনের অংশ নেওয়া ১৫৮টির মধ্যে ৬৫টির দামে বাড়ে, অপরদিকে ৬৯টির দামে কমে যায়। সিএসইতে এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যা পূর্বের কার্যদিবসের ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার তুলনায় কম। প্রধান কারণ হিসেবে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিমা খাতের অস্থিরতা মূলত এই দরপতনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।