বলিউডের কঙ্গনা রনৌত বড়পর্দায় ফিরছেন নতুন ছবিতে—‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’। গত বছরের ‘ইমার্জেন্সি’ সিনেমার সাফল্য না আসার পর এটি তার এ বছরের প্রথম থিয়েটার মুক্তি। পরিচালনা করেছেন মনোজ তাপাডিয়া, আর ছবিটি নির্মিত হয়েছে ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার এক নাড়ুমন্ত্রেমুখী এবং বীরত্বপূর্ণ সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে।
কঙ্গনা এখানে কামা হাসপাতালে কর্মরত সাহসী স্টাফ নার্স অঞ্জলি কুলথের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। প্রতিবেদনের অনুযায়ী, সেই ভয়াবহ রাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি প্রায় ৪০০ রোগীর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন—এই ঘটনার ইতিকথা ছবির কেন্দ্রবিন্দু। নির্মাতারা জানিয়েছেন, সিনেমাটি আগামী ১২ জুন দেশজুড়ে মুক্তি পাবে।
সিনেমার প্রচারণার সময় সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা নার্সিং পেশা এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছিলেন, আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নার্সরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, তবুও তাদের বেতন অত্যন্ত নগণ্য। সমাজ সাধারণত চিকিৎসকদের অবদানকে স্মরণ করে, অথচ দিনরাত সেবা দিয়ে হাসপাতাল চালু রাখছে লাখ লাখ নার্স—তাদের অবদান প্রায়ই অনাদর পায়, মন্তব্য করেন তিনি।
কঙ্গনা আরও বলেন, বিনোদন ও পপ-সংস্কৃতিতে নার্সদের যে কেবল সেবা দেওয়ার ছাঁচে দেখা হয় বা হালকাভাবে উপস্থাপন করা হয়, তাতে এই মহান পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই তাদের কাজ ও চরিত্রকে আরো সম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করার প্রয়োজন আছে।
নার্সদের কাজের পরিবেশের পাশাপাশি কঙ্গনা তাদের প্রচলিত ইউনিফর্ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান ইউনিফর্মে এখনও ঔপনিবেশিক আমলের ছাপ স্পষ্ট—পিন, ক্যাপ, বেল্টের মতো উপকরণগুলো বিদেশি সামরিক সংস্কৃতির প্রভাব বহন করে এবং আমাদের জলবায়ু ও বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না। তাই অধিক আরামদায়ক ও কার্যকরের দিক বিবেচনা করে ইউনিফর্ম আধুনিকীকরণ করা জরুরি। তার মতে, একজন নার্সের সত্ত্বা বাহ্যিক পোশাকে নয়, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সেবাভাবে নিহিত।
অভিনয়ের পাশাপাশি কঙ্গনা এই ছবির একজন প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে অঞ্জলির মতো অকুতোভয় নার্সের জীবনী পর্দায় দেখলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নার্সদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা বাড়বে। কঙ্গনা মনে করেন, যদি এই সিনেমা নার্সদের প্রকৃত অবদান তুলে ধরে তাদের সামাজিক মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে পারে, তবেই তার সৃজনশীল পরিশ্রম সফল হবে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমা দর্শকদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং মানবিকতার নতুন অনুভূতি জাগ্রত করবে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে নির্মাণে ঝাঁপিয়েছেন তৈরি টিম।








