ঢাকা | বুধবার | ৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

কমনওয়েলথের মূল্যবোধ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ বাংলাদেশের ১০০ তরুণ প্রতিনিধি

কমনওয়েলথ চার্টারের মূল্যবোধ মানুষের জীবনে ছড়িয়ে দিতে এবং তা বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের প্রায় ১০০ তরুণ প্রতিনিধি। ২৩ থেকে ২৪ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় তারা এই অঙ্গীকার স্বীকার করেন।

বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কমনওয়েলথ সচিবালয় এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল কমনওয়েলথ চার্টারে অন্তর্ভুক্ত গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মতো মূল্যবোধগুলোর প্রতি তরুণদের মধ্যে গভীর ধারণা তৈরি করা।

মিডিয়া, সিভিল সোসাইটি, সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন পেশা ও পটভূমির তরুণেরা এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন এবং ইতোমধ্যে তারা নিজেদের কমিউনিটিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। কেস স্টাডি ও দলগত আলোচনার মাধ্যমে তারা শিখেছেন কিভাবে এই মূল্যবোধগুলো বাংলাদেশি বাস্তবতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং তা প্রসারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

তাদের অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে প্রথমবারের ভোটারদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য উৎসাহিত করা, পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠী ও নারীদের কণ্ঠস্বর জোরালো করা, স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।

ঢাকার একজন সামাজিক উদ্যোক্তা নাফিয়া ইসলাম ফারিয়া বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি যে কমনওয়েলথ চার্টার আমার কাজের সঙ্গে এত গভীরভাবে জড়িত হতে পারে। কর্মশালার আলোচনায় আমার বিশ্বাস ও এই মূল্যবোধগুলো একসূত্রে আবদ্ধ হয়েছে। এই সময়ে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক মূল্যবোধ হলো সহনশীলতা, সম্মান ও বোঝাপড়া।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বাসায় ফিরে এই মূল্যবোধ অনুযায়ী নিজের কাজ, অনলাইন আচরণ এবং মত প্রকাশের মাধ্যমে পরিবর্তন আনব।”

কর্মশালায় যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, “কমনওয়েলথ চার্টার ৫৬ দেশের ২.৭ বিলিয়ন মানুষের নৈতিক দিকনির্দেশনা। এর মূল্যবোধগুলো অবমূল্যায়িত হলে একটি দেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনা সম্ভব। তাই তরুণদের জন্য চার্টার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

কমনওয়েলথের সহকারী সেক্রেটারি-জেনারেল অধ্যাপক লুইস ফ্রান্সেস্কি বলেন, “তোমরা ইতোমধ্যে চিন্তায়, উদ্যোগে ও কমিউনিটি কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছো। এখন গুরুত্ব হচ্ছে এই মূল্যবোধগুলোকে নিজের জীবন ও নেতৃত্বের কাজে প্রয়োগ করা। তোমাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।” তিনি তরুণদের উৎসাহিত করেন, “হাল ছেড়ে দিও না, উঠে দাঁড়াও, আওয়াজ তুলো, নেতৃত্ব দাও এবং নিজের এবং দেশের জন্য গর্বের সুযোগ তৈরি করো।”

বাংলাদেশ লিবার্টি অ্যান্ড রাইটস ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা জায়েদ একরাম জানান, “কর্মশালায় অংশ নিয়ে আমি মূল্যবোধগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগের জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমার সংগঠনের তরুণদের সঙ্গে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের সাংবিধানিক স্বীকৃতি অর্জনে কাজ করব।”

২০১৩ সালে গৃহীত কমনওয়েলথ চার্টার রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যবোধ ও নীতিমালার একটি সম্মিলিত ঘোষণা, যা সকল সদস্যদেশ মেনে চলার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ঢাকায় অবস্থানকালে অধ্যাপক লুইস ফ্রান্সেস্কি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন প্রতিনিধি, প্রধান বিচারপতি, উপদেষ্টা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন এবং তাদের শুভেচ্ছা জানান।