ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কমনওয়েলথ মূল্যবোধ রক্ষায় ১০০ তরুণের প্রতিজ্ঞা

ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দিন ব্যাপী কর্মশালায় প্রায় ১০০ জন তরুণ কমনওয়েলথের চার্টারের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং নিজেদের জীবনে তা বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন। ২৩ থেকে ২৪ জুন অনুষ্ঠিত এই কর্মশালা বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কমনওয়েলথ সচিবালয়ের আয়োজনে সম্পন্ন হয়।

কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মত গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ সম্পর্কে তরুণদের মধ্যে গভীর ধারণা সৃষ্টি করা। মিডিয়া, সিভিল সোসাইটি, সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন পেশা ও পটভূমির তরুণেরা এতে অংশগ্রহণ করেন। ইতোমধ্যেই তারা তাঁদের নিজ নিজ সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

কেস স্টাডি ও দলগত আলোচনার মাধ্যমে তরুণরা জানতে পারেন কীভাবে এই মূল্যবোধগুলো বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সুসংগত। কর্মশালার সমাপনী দিনে তারা এসব মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করেন।

তারা এই অঙ্গীকার করেন যে, প্রথমবার ভোটারদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের কাজে উৎসাহিত করবেন, পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠী ও নারীদের কণ্ঠস্বর জোরদার করবেন, স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন এবং নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করবেন।

ঢাকার সামাজিক উদ্যোক্তা নাফিয়া ইসলাম ফারিয়া বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি যে কমনওয়েলথ চার্টার আমার কাজের সঙ্গে এত গভীরভাবে জড়িত হতে পারে। আলোচনা শুনে বুঝতে পেরেছি আমার বিশ্বাস এবং এই মূল্যবোধ একসঙ্গে গাঁথা।” তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে ‘সহনশীলতা, সম্মান ও বোঝাপড়া’ সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক মূল্যবোধ।

তাঁর কথায়, “আমি বাসায় ফেরার পর এই মূল্যবোধ অনুযায়ী নিজের কাজ, অনলাইন আচরণ ও মতপ্রকাশের মাধ্যমে পরিবর্তনের বীজ বপন করব।”

কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, “কমনওয়েলথ চার্টার ৫৬টি দেশের ২.৭ বিলিয়ন মানুষের নৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে পরিচিত। যদি এর মূল্যবোধ অবমূল্যায়িত হয় তাহলে তা দেশের জন্য ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।” তিনি আরও জানান, এই চার্টার সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করা জাতি গঠনে তাদের কার্যকর অবদান নিশ্চিত করবে।

কমনওয়েলথের সহকারী সেক্রেটারি-জেনারেল অধ্যাপক লুইস ফ্রান্সেস্কি বলেন, “তথ্য, উদ্যোগ এবং সমাজসেবায় নেতৃত্বদান করছেন আপনারা, এখন এই মূল্যবোধগুলোকে জীবনে ও নেতৃত্বে কাজে লাগানোর সময়।” তিনি যোগ করেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আপনার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। সফলতা হয়তো নিশ্চিত নয়, কিন্তু হাল ছেড়ে দিলে ব্যর্থতা নিশ্চিত।”

বাংলাদেশ লিবার্টি অ্যান্ড রাইটস ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা জায়েদ একরাম বলেন, “এই কর্মশালা আমাকে মূল্যবোধগুলো বাস্তবে প্রয়োগের অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আমার সংগঠনের তরুণদের সঙ্গে আমি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতকরণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।”

২০১৩ সালে গৃহীত কমনওয়েলথ চার্টার রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত নীতিমালার সম্মিলিত ঘোষণা, যা সকল সদস্য দেশের সম্মতিক্রমে হয়েছে। ঢাকা সফরে অধ্যাপক লুইস ফ্রান্সেস্কি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, উপদেষ্টা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন করেন।