ঢাকা | রবিবার | ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কাঠমান্ডু বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের জোরালো উপস্থিতি: আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন ধাপ

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ভৃকুটি মণ্ডপ প্রদর্শনী হলে অনুষ্ঠিত ‘২য় দক্ষিণ এশীয় বাণিজ্য মেলা ২০২৬’-এ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের নজর কাড়েছে। রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে ব্যবসায়িক পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ প্যাভিলিয়নটি গড়েছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর আর্থিক সহায়তায়।

গত বৃহস্পতিবার নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হয়ে প্যাভিলিয়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেপালের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দও অংশগ্রহণ করেন, যা বাংলাদেশের অংশগ্রহণের গুরুত্বকে আরও বার্তা দেয়।

প্যাভিলিয়নটিতে মোট ২৪টি শীর্ষস্থানীয় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান রপ্তানিমুখী পণ্য প্রদর্শন করছে। এখানে রয়েছে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত, পাটজাত পণ্য এবং নিপুণ কারুশিল্প—সবই আন্তর্জাতিক মানের। প্রদর্শনী চলাকালীন রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান যে, বাংলাদেশের আয়োজন ও ক্ষমতা আঞ্চলিক অর্থনীতিতে দেশের অবস্থানকে শক্ত করবে ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়াবে। প্যাভিলিয়নের অভ্যন্তরে ইপিবি একটি তথ্যকেন্দ্র পরিচালনা করছে, যেখানে সম্ভাব্য ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

বাণিজ্য সংযোগ আরও মজবুত করতে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুর ম্যারিয়ট হোটেলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও নেপালের ব্যবসায়ী নেতাদের সম্মানে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য নৈশভোজ ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং সভা। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে নেপালের এফএনসিসিআই, এনসিসি ও এনএফটিএ-সহ বিভিন্ন চেম্বার ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন। এহার আগে দূতাবাসে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে যৌথ বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের নতুন ক্ষেত্র শনাক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে তৈরি পোশাক, ঔষধ, চামড়াজাত পণ্য এবং পাটজাত দ্রাব্যে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন যে কৃষি প্রক্রিয়াজাত, আইসিটি ও পর্যটন খাতেও নেপালের সঙ্গে বহু সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাবান্ধার মতো স্থলবন্দরের ব্যবহার দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্য সুবিধা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক বাধা দূর করতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আয়োজিত নেটওয়ার্কিং সেশনকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা গড়া এবং দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মেলার মাধ্যমে ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থাপন ও নতুন বাজার অন্বেষণের সুযোগ বাড়বে বলে অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।