ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

কারাগার থেকে জ্যাকলিনকে বিলাসবহুল হেলিকপ্টার ও প্রেমপত্র পাঠালেন সুকেশ

অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির মান্ডোলি কারাগারে বন্দি থাকা বিতর্কিত ব্যবসায়ী সুকেশ চন্দ্রশেখর এই বছরের ভালোবাসা দিবসে আবারও আলোচনার হয়ে উঠেছেন। কারান্তরীণ অবস্থায় থেকেও তিনি বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজকে একটি অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল হেলিকপ্টার উপহার দিয়েছেন এবং সঙ্গে একটি আবেগঘন প্রেমপত্রও পাঠিয়েছেন—যাতে তার জ্যাকলিনের প্রতি গভীর মমতা ও একাকিত্বের কথা প্রকাশ পেয়েছে।

সুকেশের পাঠানো চিঠিতে তিনি জ্যাকলিনকে ‘বেবি বম্মা’ নামে সম্বোধন করে দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে না পোঁচায় জীবনকে মরুভূমির তৃষ্ণার্ত আরোহীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। উপহারের বর্ণনা অনুযায়ী, কালো রঙের ওই হেলিকপ্টারের গায়ে জ্যাকলিনের নামের আদ্যক্ষর খোদাই করা আছে এবং এটি মুম্বাইয়ের তীব্র যানজটে তাকে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করাতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুকেশ।

তবে এই উপহারকে ঘিরে যেসব আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন ওঠে, সেগুলোকে মাথায় রেখেই সুকেশ চিঠিতে একটি বিশেষ ব্যাখ্যাও যোগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে হেলিকপ্টারটি তিনি কোনো অপরাধলব্ধ অর্থে কেনেননি, বরং নিজের কষ্টার্জিত আয়ের মাধ্যমে এটি ক্রয় করেছেন।

এর আগে বিভিন্ন উৎসবে জ্যাকলিনকে হীরা ও দামী ব্র্যান্ডের গাড়ি উপহার দেওয়ার জন্যও সুকেশের নাম শোরগোলের মধ্যে এসেছে এবং সেসব ঘটনায় সিবিআই ও ইডির নজরদারিতে এসেছিলেন তিনি। এই মুহূর্তের হেলিকপ্টার উপহার সংক্রান্ত খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং চলচ্চিত্র মহলেও নানা বিশ্লেষণ চলছে যে এটি জ্যাকলিনের চলমান আইনি লড়াইয়ে কোনো নতুন জটিলতা সৃষ্টি করবে কি না।

এ পর্যন্ত জ্যাকলিন নিজে এই উপহার বা সুকেশের চিঠি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। মামলা ও তদন্তের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনার পরবর্তী প্রভাব কী হবে, সেটাই এখন প্রাসঙ্গিক নজরদারি ও বিশ্লেষণের বিষয়।