ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কালিয়াকৈরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৮ দপ্তরের অফিস কার্যক্রম

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সরকারি একটি পুরাতন ভবন দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ন ৮টি দপ্তরের অফিস কার্যক্রম চলছে। ভবনের ছাদের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে, যা সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ থেকে পানি পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া দেয়ালের পলেস্তারে অনেক ফাটলের দাগ দেখা যাচ্ছে, যা ভবনের স্থায়িত্বের জন্য গুরুতর সংকেত বয়ে আনছে। এ অবস্থায় কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।

জানা গেছে, কালিয়াকৈরের ওই তিন তলা ভবনে উপজেলা হিসাব রক্ষক, মৎস্য, সমাজসেবা, মহিলা বিষয়ক, যুব উন্নয়ন, সমবায়, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক সহ মোট ৮টি দপ্তরের অফিস রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই পুরাতন ভবনটির অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গেছে যে এর ছাদের রড ও ইটের সুরকি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ভবনের বিকল্প কোনো স্থানে অফিস চলাচল না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই সরকারি সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

গত বুধবার বিকেলে ভবনের দ্বিতীয় তলার যুব উন্নয়ন দপ্তরের একটি অফিস কক্ষে হঠাৎ করে ছাদের একটি বড় পলেস্তার অংশ ভেঙে পড়ে, যা সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাহানারা খাতুনের টেবিল ও যন্ত্রপাতির ওপর পড়ে। এতে অফিসের কিছু আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খসে পড়া পলেস্তার একটি অংশ অফিস সহকারী তমিজুর রহমানের হাতে লাগে, যে সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নিচে নেমে যান। ওই ভবনের অন্যান্য কর্মকর্তারা ও কর্মচারীরাও তড়িঘড়ি করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। এর আগেও ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ভবনের তৃতীয় তলায় ছাদের পলেস্তারা ভেঙে সিড়ির ওপর আছড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কর্মরত ৪৬ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। জীবনের ভয়ে প্রতিদিন সকালে অফিসে এসে কাজ করতে হয় আর বেশির ভাগ সময়ই তারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। পাশাপাশি, উপজেলার পাশে পুরাতন দ্বিতীয় তলার একটি পরিত্যক্ত ভবনও রয়েছে যা ছাদ ও বিম ভেঙে পড়ছে এবং যেকোনো মুহূর্তে ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস সহকারী বিএম তমিজুর রহমান বলেন, ‘ওইদিন ছাদের একটি বড় অংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ায় আমার হাতে লেগে গিয়েছিল। ধন্যবাদ, অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছি।’

সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী মুনসের আলী ও সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন যথাক্রমে বলেন, ভবনের এই অবস্থা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে এবং নতুন ভবন নির্মাণ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। জাহানারা খাতুন আরো বলেন, ‘আমরা কীভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অফিস করবো? ভবনটি দ্রুত সংস্কারের সাপেক্ষে নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে।’

উপজেলা প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বাছেদ জানান, তিনি আজই এখানে যোগদান করেছেন এবং শীঘ্রই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার আহামেদ বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জানা হয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।