জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের এক বছরের পুর্তি উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার এক বিশাল মাসব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি উজ্জীবিত করার পাশাপাশি দেশজুড়ে একতা ও ঐক্যবদ্ধতার বন্ধন পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় বিস্তারিত কর্মসূচির তথ্য জানানো হয়। গত ১৯ জুন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘‘জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ ও দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যেকার ঐক্যের অনুভূতিকে আবার ফিরে আনা এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।’’
অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নিম্নলিখিত বিবরণ—
১ জুলাই: দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জাসহ সকল উপাসনালয়ে শহীদদের জন্য দোয়া এবং দেশে জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ স্মরণে শিক্ষাবৃত্তি চালু হবে।
৫ জুলাই: অবৈধ আওয়ামী সরকারের জুলুম-নির্যাতনের প্রচার এবং প্রতিবাদের জন্য দেশব্যাপী পোস্টারিং শুরু।
৭ জুলাই: Julyforever.org নামক একটি ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হবে।
১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট: এই সময়ের মধ্যে ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম’ শিরোনামে বিভিন্ন ভিডিও শেয়ার করা হবে, শহীদ পরিবার ও অংশগ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার তৈরি হবে। প্রতি জেলা শহরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন এবং শিল্পকলার উদ্যোগে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাইয়ের ভিডিও প্রদর্শন করা হবে। ঢাকায় টিএসসিতে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, প্রজেকশন ম্যাপিং, গান ও ড্রোন শো অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও ১৫ জুলাই থেকে শুরু করে প্রতিদিন ভিন্ন নামে বিভিন্ন স্মরণসভার আয়োজন থাকবে, যেখানে ভিডিও শেয়ারিং, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, স্মরণসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে notable অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ‘আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া’, ‘কথা ক’, ‘শিকল-পরা ছল’, ‘আওয়াজ উডা’, ‘কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা’, ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ এবং অন্যান্য দিনগুলোর স্মরণে বিশেষ আয়োজন।
২৩ জুলাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গ্রাফিতি প্রদর্শনী, ২৪ জুলাই শিশু শহীদদের স্মরণে বিশেষ কর্মসূচি, ২৫ জুলাই জাতীয় নাট্যমঞ্চে নাটক প্রদর্শন, ২৬ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর তথ্যচিত্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ২৭ জুলাই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক সংলাপের আয়োজন রয়েছে।
২৮ জুলাই স্বাস্থ্য কর্মীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা এবং সারা দেশে রক্তদান-সহ মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন চলবে। ২৯ জুলাই থেকে শুরু করে শ্রমিক সমাবেশ, ৩০ জুলাই সাংবাদিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্যানেল ডিসকাশন এবং ৩১ জুলাই সব কলেজে স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ১ আগস্ট ৬৪টি জেলায় তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, কফি টেবিল বুক প্রকাশ এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে। ২ আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, র্যাপ অনুষ্ঠান, বিজয় মিছিল ও ড্রোন শোসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণের আয়োজন থাকবে।
এই ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার aims to revive the spirit of unity and justice reflected in last year’s July uprising and to honour the sacrifices made by countless বীর শহীদদের, ensuring that তাদের আত্নত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া হবে না।









