নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ঐতিহাসিক গণভোটে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬০.২৬ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে, সংস্কারপন্থী ‘হ্যাঁ’ ভোট পায় ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি, যা বিপক্ষে ‘না’ ভোটের চেয়ে উল্লেখযোগ্য বেশি, যেগুলি পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। এই শক্তিশালী জনগণের রায় অনুযায়ী, ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্রের সংস্কারের রূপরেখা জনসমর্থন পেয়েছে বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।
একই সময়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের ফলাফলের বিভিন্ন আড়িপত্রও ঘোষণা করা হয়। এতে, বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো যথাক্রমে ২১২টি আসনে জয় লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন লাভ করে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পেয়ে এক অনন্য পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী জোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটিতে জয় লাভ করেছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কারণ এটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দলগত ফলাফলের বৈচিত্র্য বেশ স্পষ্ট। জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন পেয়েছে। অন্যান্য জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ জাতীয় দলীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ প্রত্যেকে ১টি করে আসন লাভ করেছে। তবে, আইনি ও মামলার জটিলতার কারণে কিছু আসনের ফলাফল ঘোষণা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, যেমন চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪। এছাড়া, প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণও পূর্ব থেকেই স্থগিত ছিল। শেষ বক্তব্যে আখতার আহমেদ অংশগ্রহণকারী সকল পক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফলগুলোর সরকারি গেজেট প্রকাশের পাশাপাশি, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।








