ঢাকা | রবিবার | ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ এবং সাহসী সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে সরকার ও গণতন্ত্রও শক্তিশালী হবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরবেন—ভালো কাজ করলে তার স্বীকৃতি দিতে হবে, আর যে অন্যায় করবে তাকে সমালোচনার মুখে আনা হবে। তিনি বলেন, ‘সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলে দেওয়ার সাহসই সাংবাদিকতার মূল শক্তি।’ রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরে সঠিক পথ দেখানো গণমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফখরুল আরও বলেন, রাজনীতিকরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়; জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল হতে পারে। সেই ভুল তুলে ধরা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে সত্য প্রকাশ করাই সংবাদমাধ্যমের মৌলিক কর্তব্য। অনেক সময় সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকরা হামলা বা হয়রানির শিকার হন, যা তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেছেন।

মন্ত্রী বলেন, একটি দেশের গণতন্ত্রের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের ওপর। তাই সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।

সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু করা হয়েছে। তবে যতই অবকাঠামো উন্নয়ন হোক না কেন দক্ষ, সৎ ও দায়বদ্ধ নেতৃত্ব গঠন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে গুরুত্ব আরোপ করেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, কাজকে বিচার করতে হবে; ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে তিনি প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার সাংবাদিকতার মাধ্যমে তারা গণমানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবেন এবং প্রেসক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী এবং এলাকার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।