ঢাকা | রবিবার | ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

গুয়াতেমালায় কারাগার দখলে বন্দিদের দাঙ্গা, ৪৬ জিম্মি

দক্ষিণ মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালায় গভীর এক সংকট সৃষ্টি হয়েছে কারা ব্যবস্থায়। তিনটি কারাগারে একযোগে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ন্ত্রণে এনেছে বন্দিরা। শনিবারের এই দাঙ্গার সময় বন্দিরা কারাগারের টহল টাওয়ার ও উচ্চ স্থানগুলো দখল করে নিয়েছে, এবং অন্তত ৪৬ জনকে জিম্মি করে রেখেছে। এই জিম্মিদের মধ্যে বেশিরভাগই কারারক্ষী, তবে একজন মনোবিজ্ঞানীও সেখানে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গুয়াতেমালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো অ্যান্তোনিও ভিলেদা একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল পর্যন্ত জিম্মিদের মধ্যে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি এই দাঙ্গার জন্য মূলত দায়ী করেছেন কুখ্যাত গ্যাং সংগঠন ‘ব্যারিও ১৮’ কে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই তিনটি কারাগারে ঝামেলা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে। মূলত গ্যাংয়ের নেতারা উন্নত পরিবেশ ও সুবিধা চাইতে এই বিদ্রোহের আয়োজন করেছে, যেন তারা অন্য কারাগারে স্থানান্তর পায়। তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে কোনো আলোচনায় যাবে না এবং তাদের ব্ল্যাকমেইলের কাছে মাথা নত করবে না।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে গুয়াতেমালার সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধী চক্রের আধিপত্য কমানোর চেষ্টা করেছে। বিশেষত ‘ব্যারিও ১৮’ এবং ‘মারা সালভাত্রুচার’ গ্যাং নেতাদের ‘রেনোভাশন ১’ নামে উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগারে স্থানান্তর করে তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এর ফলে তারা বাইরের অপরাধ সংযোগ বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। সরকারের এই পদক্ষেপের বিপরীতে এই দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, এই উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগারগুলোসহ অন্যান্য দাঙ্গা কবলিত কারাগার এখন সেনা ও পুলিশের বিশেষ দল দ্বারা ঘেরাও করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেন যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অভিযান শুরু করা যায়। কারাগারের টহল টাওয়ারগুলোতে বন্দিদের অবস্থান করার ছবিও ধরা পড়েছে, অনেকের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা। এক মুখোশধারী বন্দি অভিযোগ করেছে, কারাগার নিরাপদ নয়, এবং তারা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকে দায়ী করছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে ফ্রাইজানেস-২ কারাগার থেকে ব্যারিও ১৮ গ্যাংয়ের ২০ জন শীর্ষ নেতা পালিয়ে যাওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বর্তমানের মার্কো অ্যান্তোনিও ভিলেদা। তিনি নিয়ন্ত্রণে আনেন কঠোর আইন ও নীতিমালা, যাতে গ্যাং সংগঠনগুলোর অপকর্ম কমে আসে। বাইরের দেশগুলোও এই গ্যাংগুলোকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে, ফলে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সুবিধা দেওয়া এখন সরকারের জন্য নিষিদ্ধ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, অপরাধীদের সুবিধা দিলেই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, এবং সরকার তা মেনে নেবে না।