ঢাকা | সোমবার | ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

চট্টগ্রাম বন্দরের জট কমাতে এনবিআর নিলামে তুলছে ৩৭৮ কন্টেইনার পণ্য

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অখালাসকৃত পণ্য সরিয়ে কন্টেইনার জট কমাতেই ৩৭৮টি কন্টেইনার পণ্য ই-অকশনে বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে। রবিবার (১৫ মার্চ ২০২৬) এনবিআরের প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্দরের কন্টেইনার জট কমানো, নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ এবং বন্দরের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস নিয়মিতভাবে অখালাসকৃত পণ্য নিলামে তোলার কার্যক্রম চালায়। এ ধারাবাহিকতায় মার্চ ২০২৬ মাসে মোট ৩৭৮টি কন্টেইনার জুড়ে দুটি ই-অকশনের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।

বিশেষ আদেশ নং–৮২/২০২৫/কাস্টমস অনুযায়ী ই-অকশন–২/২০২৬-এ ৪৯টি লটে মোট ১৮০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ, আর্ট পেপার, বিটুমিন, ফেব্রিক্স, হাউজহোল্ড আইটেমস ও গাড়ির যন্ত্রাংশসহ অন্যান্য সামগ্রী। এই অংশের পণ্যের জন্য কোনো সংরক্ষিত মূল্য (রিজার্ভড ভ্যালু) নির্ধারিত হয়নি।

অপরদিকে স্থায়ী আদেশ নং–৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ অনুযায়ী ই-অকশন–৩/২০২৬-এ ৭৪টি লটে মোট ১৯৮ কন্টেইনার পণ্য নিলামে থাকবে। সেখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, মেটাল স্ক্র্যাপ, ক্রাফট লাইনার পেপারসহ নানা ধরনের পণ্য।

নিলাম কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল ই-অকশন পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে বলে এনবিআর জানিয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা রক্ষা করা যায়। আগ্রহী বিডারদের জন্য মার্চ মাসজুড়ে পণ্য সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং অনলাইনে দরপত্র জমা দেয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

আগ্রহী ক্রেতারা বাংলাদেশ কাস্টমস-এর ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে ঘরে বসেই অনলাইনে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। তবে বিড করার পাশাপাশি জামানতের পে-অর্ডার এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে জমা দিতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদেরকে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২০২৪ অনুযায়ী পণ্য খালাস করতে হবে।

এনবিআর আরও জানিয়েছে, ই-অকশন–২/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স ৩১ মার্চ ২০২৬ দুপুর ২টায় খোলা হবে এবং ই-অকশন–৩/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স ৮ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ২টায় খোলা হবে।

সংস্থাটি বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ থাকবে, যাতে বন্দরের কর্মপদ্ধতি দ্রুত ও কার্যকর থাকে।