ঢাকা | শুক্রবার | ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৮ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি ইজারাকে কেন্দ্র করে অচলাবস্থা, জরুরি সভার আহ্বান

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে আজ বৃহস্পতিবারও শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলমান রয়েছে। এই কর্মসূচির মূল কারণ হলো, সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হওয়ায় বন্দরে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষণ একটি উচ্চপর্যায়ের সভা আহ্বান করেছে। এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন। এতে বন্দরের সব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তা, নিরাপত্তা সংস্থা, আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শ্রমিক নেতারা ও বন্দরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষের এক অফিসিয়াল পত্রে জানানো হয়েছে, মূল উদ্দেশ্য হলো বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, আমদানি-রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া এবং পণ্য খালাস ও লোডিং কার্যক্রমের স্থবিরতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেই এই জরুরি বৈঠক। বর্তমানে বন্দরে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের কারণে বিভিন্ন জেটিতে জাহাজগুলো থেকে কনটেইনার এবং অন্যান্য পণ্য ওঠানো-নামানো সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে বন্দরের আমদানিকৃত পণ্য ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, মালামাল আনা ও নেয়া এবং যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ায় দেশের অর্থনৈতিক কার্যকলাপেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মো. হুমায়ুন কাবীর জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কঠোর কর্মসূচি চলবে, যতক্ষণ না সরকার ঘোষণা করে এনসিটি ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসবে। এই আন্দোলনের সূত্রপাত গত শনিবার, যখন শ্রমিকরা তিন দিন টানা আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর মঙ্গলবার থেকে ২৪ ঘণ্টার এবং বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় তারা। শ্রমিকদের দাবি, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে এই টার্মিনাল গেলে বন্দরের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনের প্রথম দিনই চারজন শ্রমিককে বদলি করা হয় এবং পরে আরও ১২ জনকে অন্য অফিসে সরিয়ে দেয়া হয়। গত সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে আরও ১৫ শ্রমিককে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করার ঘোষণা আসে। এর পাশাপাশি, এই কর্মবিরতির কারণে দেশের রাজস্ব আঙুল ক্ষতি নিরূপণে একটি ছয় সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এই শাস্তিমূলক কার্যক্রমের মাঝেও শ্রমিকরা নিজেদের দাবি থেকে সরে আসেনি, আর তাই আজকের জরুরি বৈঠকটি বন্দরের ভবিষ্যৎ এবং চলমান সংকটের সমাধানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের মূল প্রবেশপথ হিসেবে এই বন্দরের দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা এড়াতে দ্রুত একটি সম্মানজনক ও টেকসই সমাধান প্রত্যাশা করছে ব্যবসায়ীরা এবং সাধারণ জনগণ।