রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজির মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এলাকায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত ফারুক, যা কালা ফারুক নামেও পরিচিত, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারির পর তাকে হাতকড়া পরানো হয় এবং এলাকার জনগণের মধ্যে চাঁদাবাজির বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে মাইকিং করা হয়।
আজ রবিবার বিকেলে কেরানীগঞ্জ থানার কলাতিয়া এলাকার একটি অভিযানে ফারুককে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, মোহাম্মদপুর থানার বসিলা গার্ডেন সিটি ও আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ফারুক ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদার জন্য হুমকি দিতেন। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ী থানা পুলিশকে অভিযোগ দিলে, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পাশাপাশি, ওই চাঁদাবাজির হুমকি ও অশ্লীল ভাষার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। গোয়েন্দাদের তথ্যানুযায়ী, অভিযান চালিয়ে তাকে কলাতিয়া এলাকার ধলেশ্বরী নদীর তীরে থেকে আটক করা হয়।
অন্যদিকে, অভিযানের অংশ হিসেবে মোহাম্মদপুর থানার ওসির নেতৃত্বে ফারুকের উপস্থিতিতেই জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিং করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, “এমন কোন চাঁদা পরিশোধ করবেন না এবং যদি কোথাও চাঁদাবাজির ঘটনা দেখেন, অবিলম্বে পুলিশকে জানাবেন। চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।” মাসে আব্দুল্লাহ আল মামুন আরো বলেন, ফারুক ও তার মতো চাঁদাবাজদের ক্ষেত্রে এই কঠোর পদক্ষেপ অপরাধীদের হুঁশিয়ারি দেয়, যাতে তারা আর যাতে এ ধরনের অপরাধে জড়াতে নারাজ হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বসিলায় চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার ঘটনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। এর পরই ফারুক গা ঢাকা দেন। তবে গোয়েন্দাদের তৎপরতায় তাকে ধলেশ্বরী নদীর তীর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ বলছে, এই ধরনের অপরাধ রুখতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো অপরাধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








