ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংসের লক্ষ্যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে গুটিয়ে তোলার জন্য স্পষ্ট ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি জানান, বর্তমানে যে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্রান্ত লুকানো আছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংসস্তূপে রূপান্তর করা। বিশেষ করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি এসব ষড়যন্ত্রের টার্গেট। তিনি আরও বলেন, যিনি আজ একটা সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে উঠছেন, তাকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য একটি চালাক পরিকল্পনা চলছে, যাতে তাকে অপমানিত এবং সন্দেহাতীতভাবে দোষারোপ করা হয়।

১০ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে এক হোটেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জীবন ও রাজনীতির ওপর লেখা ‘তারেক রহমান: দ্য হোপ অব বাংলাদেশ’ নামক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি সাম্প্রতিক সময়ে দলের বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণের অভিযোগও করেন। বলেন, “আমাদের ওপর পিঠাপাশি এবং বহুপৃষ্টিভিমুখে সাইবার জঙ্গি হামলা চালানো হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবেই বিএনপিকে হেয়প্রতিপন্ন ও উড়িয়ে দেওয়ার জন্য এটি করা হচ্ছে। যা সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, প্রথমবারের মতো দলের প্রধান তারেক রহমানের ওপর সরাসরি আক্রমণ চালানো হচ্ছে। আপনি নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন, তাঁর নাম উল্লেখ করে নানা অপপ্রচার অর্থাৎ মেলাইনমেন্ট করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”

গণমাধ্যমের পরিবেশ ও চিত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল দলের নেতা-কর্মীদের ‘সাইবার যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আজকাল মিডিয়া পাল্টে যাচ্ছে; সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের মন ও চিন্তাভাবনাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তরুণদের সামনে এসে তথ্যপ্রযুক্তিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।”

তিনি আরও জানান, বিএনপিকে সহজে ধ্বংস করা যাবে না এবং দল প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মাধ্যমে বারবার শক্ত হয়ে উঠে। তারেক রহমানের সাথে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “ম্যাডাম খালেদা জিয়ার কারাবন্দি থাকার পর থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে আমি সরাসরি কাজ করছি। তিনি অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা রাখেন যা কম রাজনীতিবিদের মধ্যে পাওয়া যায়। অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করতে এবং দেশের গ্রামাঞ্চলে পৌঁছাতে তার সক্ষমতা দৃষ্টিগোচর হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান এবং বিএমডিবিউটির ডেন্টাল অনুষদের ডিন সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

অনুষ্ঠানে প্রকাশিত ‘তারেক রহমান: দ্য হোপ অব বাংলাদেশ’ বইটি জেড ম্যান প্রোডাকশন থেকে প্রকাশিত। বইটির সম্পাদনা করেছেন শহিদুল ইসলাম খান, নির্বাহী সম্পাদক আব্দুর রহমান নূর এবং সহসম্পাদক রেজওয়ানুল হক। ৩২৩ পৃষ্ঠার বইটির ১১টি অধ্যায়ে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা, যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব, তৃণমূল সংগঠনের কাজ, ষড়যন্ত্রমূলক গ্রেপ্তার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার দায়িত্ব এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তার অবদান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।