ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংসের পরিকল্পনা চলছে: মির্জা ফখরুল

বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে যা অপপ্রচার চলছে, তার পেছনে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র কাজ করছে। এর লক্ষ্য বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী ত্ত্ববাদের শক্তিকে সম্পূর্ণরূপে লণ্ডভণ্ড করে দেওয়া। বিশেষ করে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত গড়ে উঠেছে, যিনি নতুন করে উঠে আসছেন এবং যাঁর নেতৃত্বে দলের সম্ভাবনা বেড়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে অবজ্ঞাসূচকভাবে গাম্ভীর্যহীন অবস্থায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এই মন্তব্যগুলি তিনি রোববার রাজধানীর গুলশানের এক হোটেলে ‘তারেক রহমান: দ্য হোপ অব বাংলাদেশ’ শিরোনামের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সাইবার হামলা পরিচালিত হয়েছে যাতে দলের খ্যাতি ক্ষুণ্ন করা যায় ও তাদের কার্যক্রম দুর্বল করা যায়। প্রথমবারের মতো তারেক রহমানের ওপর তীব্র সাইবার আক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার মাধ্যমে তাঁর নাম ও চরিত্রকে অবজ্ঞাসূচকভাবে মেলাইন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বক্তব্য।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মিডিয়ার ভূমিকাও পাল্টে যাচ্ছে। কেবল পত্রিকা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া নয়, সোশ্যাল মিডিয়াও ব্যাপকভাবে মানুষের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করছে। তাই দলের নেতাকর্মীদের এই সাইবার যুদ্ধের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি যুবসমাজকে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি মাধ্যমে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তরুণ নেতাদের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এসে অবাঞ্ছিত তথ্য ও ভুল ধারনা ছড়ানো বন্ধ করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল আশ্বাস দেন, বিএনপি এত সহজে হার মানবে না এবং প্রমাণ দিয়েছে যে দল ধ্বংসস্তূপ থেকেও পুনর্জাগরণ ঘটাতে সক্ষম।

তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জানিয়েছেন, ‘‘খালেদা জিয়ার কারাবন্দি থাকার সময় থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছি। তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে যা খুব কম রাজনীতিবিদের মধ্যে দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বিশাল গণমানুষকে সংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন এবং দেশের গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছেছেন।’’

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, এবং বক্তব্য দেন দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও বিশ্লেষকরা।

‘জেড ম্যান প্রোডাকশন’ থেকে প্রকাশিত এ বইটির সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান, নির্বাহী সম্পাদক আব্দুর রহমান নূর, সহসম্পাদক রেজওয়ানুল হক এবং উপসম্পাদক মেহেদী আরজান। বইটি মোট ৩২৩ পৃষ্ঠার এবং এতে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন, রাজনীতিতে আগমন, দলের নেতৃত্বের ভূমিকা থেকে শুরু করে ষড়যন্ত্রমূলক গ্রেপ্তার ও দেশের উন্নয়নে তাঁর সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।