ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

জাতীয় নির্বাচনের আগে ২০ হাজারের বেশি বৈধ অস্ত্র এখনও জমা পড়েনি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের নিখুঁত, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সারা দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়া সত্ত্বেও এখনো ২০ হাজারের বেশি অস্ত্র অবাধে পুরোপুরি সরতে পারেনি। এর ফলে জননিরাপত্তার পরিস্থিতি ঘুণাক্ষরেও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে—এমন ভাবনা বাড়ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, যারা নির্ধারিত সময়ে তাদের অস্ত্র জমা দেননি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি তথ্যে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে মোট ৪৮ হাজার ২৮৩টি লাইসেন্সযুক্ত অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ২৭ হাজার ৯৯৫টি অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় বা সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে। অর্থাৎ, এখনও প্রায় ২০ হাজার ১২৮৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে রয়েছে, যা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সব বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা निर्धारित করা হয়েছিল। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র না জমা দিলে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অর্ধেকের বেশি অস্ত্রের লাইসেন্সই গত সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও অনেকের বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলা চলমান বা তারা রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে গোপনობაში আছেন। অনেকে ইতিমধ্যে দেশের বাইরে চলে গেছেন, ফলে এসব অস্ত্র সংগ্রহে প্রশাসনিকভাবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে সরকার। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল সংখ্যক অস্ত্র যদি না সরিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে নির্বাচনের সময় নাশকতার ঝুঁকি বাড়বে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, যেসব অস্ত্র এখনও উদ্ধার করা যায়নি, সেগুলো নির্বাচনের জন্য বড় ঝুঁকি বা ‘থ্রেট’। শুধু বৈধ অস্ত্রই নয়, অবৈধভাবে প্রবেশ করা অস্ত্রের ব্যবহারে সবারই সতর্ক রয়েছে পুলিশ। নির্বাচন পরবর্তী সময়ের সহিংসতা ও অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারে রোধে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে আছেন, তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখিও হতে হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ। প্রশাসন সব রকম বাধা কাটিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও নিরাপদ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।