জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনে তাদের প্রতীক হিসেবে জাতীয় ফুল শাপলা নিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে নতুন এই রাজনৈতিক দলটি তাদের আবেদন দাখিল করে। আবেদনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়িকা সামান্তা শারমিন উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের পছন্দের প্রতীকের তালিকায় শাপলা ছাড়াও কলম ও মোবাইল রক্ষিত রেখেছে। আবেদন জমা দেওয়ার পর আখতার হোসেন জানান, ‘‘আমরা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নির্বাচনী দলের নিবন্ধনের সকল শর্ত পূরণ করে আমাদের দলটি নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা আমাদের আবেদন গ্রহণ করেছেন এবং রিসিভ কপি আমাদের হাতে প্রদান করেছেন।’’
এ সময় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিমত প্রকাশ করে বলেন, ‘‘৫ মার্চের গণঅভ্যুত্থানের মতো বাংলাদেশের মানুষ যে জয় অর্জন করেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এনসিপির শাপলা প্রতীকে সমগ্র দেশের মানুষ জয়ের সংকেত দেবে এবং আমাদের নেতৃত্বে একটি নতুন সরকার গঠন হবে।’’
নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘‘বিগত ১৫ বছরে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন দুর্বল হয়েছে। এটি পুনর্গঠন ও নিয়মনীতির পরিবর্তন করা প্রয়োজন। মানেই এই নয় যে নির্বাচন কমিশন দেশ থেকে চলে গেছে। আমরা এই কমিশনকে শক্তিশালী করে জনগণের ভোটাধিকারের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে চাই। এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা আজ এখানে এসেছি এবং বারবার বলছি, নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন আবশ্যক।’’
জাতীয় নাগরিক পার্টি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়েছে এই দল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে, নির্বাচন কমিশন গত ১০ মার্চ থেকে আগ্রহী দলগুলোর কাছ থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করে। ২০ এপ্রিলের মধ্যে ৬৫টি নতুন দল তাদের আবেদন জমা দেয়। পরবর্তীতে এনসিপিসহ আরও ৪৬টি দলের আবেদন বিবেচনায় নিয়ে নিবন্ধনের আবেদন সময়সীমা ২ মাস বাড়িয়ে ২২ জুন পর্যন্ত করা হয়। গতকাল রোববার ছিল শেষ দিন, যার মধ্যে উদ্বুদ্ধ প্রায় দুই ডজনের বেশি দল আবেদন জমা দিয়েছে।









